আরেক দফা সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : বিএনপি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জনগণ হতাশ হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এতে সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। বরং জাতিকে আরেক দফা সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ঘণ্টাখানেক পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। আজ শনিবার বিকাল ৩টায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক সংকট চলছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কীভাবে নির্বাচন অর্থবহ করা যায় তা নিয়ে কিছু বলেননি। দুঃখজনকভাবে তার বক্তব্যের সংকট নিরসনের কোনো লক্ষণও খুঁজে পাইনি। তার বক্তব্যের সঙ্গে সত্যতার মিল নেই।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৫ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। এ পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার, তার আয়োজনে সরকার আন্তরিক নয়। বর্তমান পরিস্থিতি এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ আশাহত হয়েছে বলেও মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশ দুর্নীতির মহাসড়কে আছে। উন্নয়নের নামে সবেচেয় বেশি দুর্নীতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের কথা বলেছেন। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের কথা বলায় সে সংকট রয়ে গেল। দেশের মানুষ অর্থবহ নির্বাচন দেখতে চায়। তার বক্তব্যের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত দেখা গেল না। এটা হতাশাজনক। মানুষ এ অন্যায় সহ্য করবে না।

নির্বাচন নিয়ে কোনোরকম নৈরাজ্য সহ্য হবে নাÑ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে হুমকি বললেন ফখরুল। বলেন, তিনি হুমকির সুরে এ কথা বলেছেন। আমরা বলতে চাই, নৈরাজ্য বিরোধী দল সৃষ্টি করে না। নৈরাজ্য সরকার করে। বিগত সময়ে তারাই নৈরাজ্য করেছিল যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তার বক্তব্য জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এ সংবিধান কাদের? কাদের দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনে জনগণের আশার প্রতিফলন হয়নি। একতরফাভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল রাতে বনানী মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণের কথা থাকলেও উত্তর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করায় তা বাতিল করা হয়। তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রচার করা যাবে না। পরে মির্জা ফখরুলসহ নেতারা গুলশান কার্যালয়ে ফিরে যান। কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, অর্পণা রায়, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের রাজীব সীমান্ত, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে