বিদেশি মালিকানায় যাচ্ছে টাওয়ার পরিচালনা

  শাহিদ বাপ্পি

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৮:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনুমোদিত মোবাইল ফোন টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিবর্তিত নীতিমালায় শতভাগ বিদেশি মালিকানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব নিয়ে ৭ জানুয়ারি টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালার অনুমোদন করেন। মন্ত্রী অনুমোদনের পর সেটির কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিটিআরসিতে পাঠানো হয়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার স্থাপনের কোনো নীতিমালা ছিল না। এ সুযোগে অপারেটররা নিজেদের মতো যেখানে প্রয়োজন পড়েছে সেখানে টাওয়ার স্থাপন করেছে। দীর্ঘ সময় পর সুশৃঙ্খলভাবে টাওয়ার পরিচালনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশে প্রায় ৩০ হাজার টাওয়ার পরিচালনায় ৪টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অর্থাৎ ৭০ শতাংশ বিদেশি ও ৩০ শতাংশ দেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সে অনুযায়ী বিটিআরসি নীতিমালাও করে এবং তার অনুমোদন মেলে। নীতিমালা অনুযায়ী টাওয়ার পরিচালনা কোম্পানির কাছে অপারেটরের নির্মিত টাওয়ারগুলো বিক্রি অথবা লিজ দেওয়ার শর্ত উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অপারেটররা মোট টাওয়ারের ১০ শতাংশ নতুন করে স্থাপন করতে পারবে বলে শর্ত ছিল।

লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম : তিনটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে দরপত্রের মাধ্যমে। টাওয়ার পরিচালনায় যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ‘বিউটি কনটেস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন কমিটি নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করবে। অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক সামর্থ্যরে বিষয় নির্দিষ্ট মানদ-ের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ান কোম্পানি ইডকো বিটিআরসির কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটিকে অন্য তিন কোম্পানির মতো লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। মোবাইল অপারেটর ও ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা সরাসরি টাওয়ার পরিচালনায় লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। আরও উল্লেখ্য, দেশি কোনো কোম্পানির টাওয়ার পরিচালনায় কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে নতুন নীতিমালায়। জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালায় পরিবর্তনের প্রধান শর্ত এটিই। কারণ হিসেবে জানানো হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, সংশোধনী নীতিমালা এখনো পাইনি। আমার কাছে এলে বিয়য়টি দেখব। নীতিমালায় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়লে তা সংশোধন হতে পারে। বিটিআরসির নীতিমালা তৈরি করে পাঠালে আমি বিযয়টি দেখব।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালায় কিছু ক্লজে সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সংশোধিত নীতিমালা কমিশনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে সংশোধিত নীতিমালায় আর্থিক বিষয়ে কোনো পরিবর্তন না থাকায় অর্থ বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. এম রোকনুজ্জামান আমাদের সময়কে এ বিষয়ে বলেন, মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে আমি সব সময় বলেছি এ খাতের উন্নয়নে আগে আমাদের রোডম্যাপ থাকতে হবে। কীভাবে দেশি ছোট কোম্পানি বড় বিদেশি কোম্পানির সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার একটি রোডম্যাপ থাকতে হবে। তা না হলে টেলিযোগাযোগ খাত বিদেশি কোম্পানির মনোপলির মাধ্যমে চলতে থাকবে। শুধু লাইসেন্স দেওয়াই মুখ্য উদ্দেশ্য হতে পারে না। বিটিআরসি কি কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে? তারা শুধু সার্ভিসের চেয়ে রাজস্ব আহরণ করাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই আজ এ দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব দিতে পারছে না। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশও থাকতে হবে। দুটোর সমন্বয় করতে না পারলে একটি অংশ অনেক বেশি ওপরে উঠে যাবে আর আরেকটি নিচের দিকে ধাবিত হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে