বিএনপি-জামায়াতে কী হচ্ছে

  নজরুল ইসলাম

১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালÑ এটি শুধু ঘোষণার বাকি। তার পরও দলের কয়েকজন নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর বিএনপিবিরোধী একটি অংশ যেন ভিন্নভাবে এগোচ্ছেন। সম্প্রতি জামায়াতের কয়েকজন নেতার সঙ্গে বিএনপির কয়েক নেতার পারস্পরিক আলোচনার সূত্র আমাদের সময়কে সে রকম ইঙ্গিত দিয়েছে। দলীয় বৈঠকে সেলিম উদ্দিন বলেছেন, তিনি প্রার্থী হতে চান। বিএনপির কয়েকজন নেতা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। জামায়াত নেতা সেলিম গতকাল নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে তাবিথ আউয়ালকে দলের মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করে তাকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে বলেন। এর পর তাবিথ আউয়ালের পক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও মহানগর নেতাদের নিয়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। তাবিথ আউয়ালও নির্বাচন পরিচালনার জন্য তেজগাঁওয়ে একটি অফিস নেন এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও শুরু করেন। তবে তাবিথকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য, কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের কয়েক নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত জানার পরও জামায়াতে বিএনপিবিরোধী অংশ মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। শুধু সেলিমই নন, বিএনপি থেকেও কয়েকজন নেতা মেয়রপ্রার্থী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা দেন। জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে শুক্রবার বৈঠক করে জামায়াত। ওই বৈঠকে জামায়াতের উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন বলেছেন, মেয়রপ্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতারাও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। গতকাল সেলিম উদ্দিন নির্বাচন কমিশন থেকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। যদিও জামায়াতের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, খালেদা জিয়া যাকে মেয়রপ্রার্থী করবে, তার পক্ষে সমর্থন দেওয়া হবে।

এর আগে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশন গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বৈঠক করেন। সেখানেও মেয়রপ্রার্থী নিয়ে জামায়াতের কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয়, আগে মহানগর পর্যায়ে আলোচনা হতে হবে, এর পর ঢাকা মহানগর উত্তরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক হয়।

এ অবস্থায় শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে করণীয় ঠিক করতেই বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। এ বৈঠকে তাবিথ আউয়াল ছাড়াও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব) কামরুল ইসলাম, মেজর (অব) আক্তারুজ্জামান, শাকিল ওয়াহেদের নাম উচ্চারিত হয়। নানা দিক বিশ্লেষণ করে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগ্রহীদের প্রার্থী হতে গেলে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে হবে এবং তাদের মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎ দিতে হবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলোচিত প্রার্থী ছাড়াও গতকাল নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি বিদেশে অবস্থান করা এমএ কাইয়ুমের পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, যারা দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছে, তারা সবাই যে মেয়রপ্রার্থী হবেন এমনটা নয়। কেউ আলোচনায় থাকতে আবার কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করতেই দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। যারা দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন, তাদের মধ্যে অন্তত দুই নেতাকে কখনো বিএনপির দলীয় কর্মকা-ের সঙ্গে দেখা যায়নি। আরেকজন পলাতক হিসেবে দেশের বাইরে। আইনি জটিলতায় তার পক্ষে প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। আলোচনায় থাকা কামরুল ইসলামের জনপ্রিয়তা থাকলেও তিনি প্রার্থী হবেন না বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন। কোনো কারণে তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা নিয়ে সংকট দেখা দিলে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করাদের মধ্য থেকে মেয়রপ্রার্থী করা হতে পারে। জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য আমাদের সময়কে জানান, এ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনাই হয়নি। বিকল্প হিসেবে ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজন হবে না।

স্থায়ী কমিটির আরেক নেতা জানান, জামায়াতের যদি কোনো প্রার্থী থাকে, তা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা করতে হবে। তার আগে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের একটি তালিকা করে চেয়ারপারসনকে দিতে হবে। যেখানে একাধিক প্রার্থী থাকবে, সেটা নিয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক জানান, উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরপ্রার্থী হিসেবে ৮৫ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। আর সংরক্ষিত মহিলা ৬টি ওয়ার্ডে ১০ জনের মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে। আজ সোমবার তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। এর পর সম্ভাব্য একটি তালিকা চেয়ারপারসনকে দেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে