এ মাসেই বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

  মো. মাহফুজুর রহমান

২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সঠিক হিসাব মেলাতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতিপূর্বে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে চলতি মাসে বৃষ্টি বা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের উল্লেখ না থাকলেও সম্প্রতি পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ মাসেই বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি অথবা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং অন্যত্র দুই থেকে তিনটি মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও গতকাল থেকে দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে।

এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। সেখানে ব্যারোমিটারের পারদ ২ দশমিক ৬ ডিগ্রির ঘরে থমকে ছিল, যা ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তারও আগে সর্বশেষ তীব্র শীত পড়েছিল ১৯৬৮ সালে। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এরও ২০ বছর আগে ১৯৪৮ সালে প্রচ- শীত পড়েছিল। কিন্তু ওই তাপমাত্রার রেকর্ড খুঁজে পায়নি আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ছয় কারণে এবার অতিতীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। উচ্চবলয় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশের দিকে প্রায় ২০০ মিটারের একটি কুয়াশাস্তর ছিল। ফলে ঢাকা পড়ে সূর্য। এতে ভূপৃষ্ঠ এবং এর সংলগ্ন বাতাসের উষ্ণতা বাড়তে পারেনি। তা ছাড়া ভারতের হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা অনেক কম। শীত মৌসুমে সাধারণত ওইসব এলাকা (উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক) থেকে বাংলাদেশমুখী বাতাসের গতি থাকে। সেটিও শীতল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেঘমুক্ত আকাশ। সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকলে বিকিরণ প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠ শীতল হতে সময় লাগে। ফলে ধরণী শীতল হতে না হতেই নতুন দিনের সূর্যোদয় ঘটে।

এদিকে গত কয়েক দিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পর বুধবার থেকে দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। উন্নতি হয়েছে তাপমাত্রার। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, তাপমাত্রা ধীরলয়ে বাড়তে থাকবে। উন্নতি ঘটবে শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতির। তবে শীতের অনুভূতি থাকবে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, ২৪ জানুয়ারির পর শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে এ শৈত্যপ্রবাহ মৃদু বা মাঝারি এবং অঞ্চলভেদে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এ ছাড়াও আকাশ আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ছে। দিন যত যাবে এভাবে ততই তাপমাত্রা বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেও সহসাই এ শীত যাচ্ছে না। জানুয়ারি মাসজুড়েই থাকবে শীতের আধিক্য। শেষদিকে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে