ভাষা আন্দোলনের কয়েকটি ভাস্কর্য

  শান্তা মারিয়া

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ দেশের বীরসন্তানরা যে অকুতোভয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন, বিশ্ব ইতিহাসে তা অমর হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক। ভাস্কর্যেও মূর্ত হয়েছে ভাষা আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেমন ভাষাশহীদদের অমর স্মৃতিকে ধারণ করে, তেমনি সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থানে ছড়িয়ে আছে শহীদ মিনারের অসংখ্য প্রতিরূপ। শহীদ মিনার ও তার প্রতিরূপগুলো ছাড়াও ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করে নির্মিত হয়েছে অনেক ভাস্কর্য ও ম্যুরাল।

ভাষা আন্দোলনের শহীদ এবং একুশের অমর চেতনা স্মরণে ১৯৯১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নির্মিত হয় ভাস্কর্য ‘অমর একুশে’। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের সামনে এটি স্থাপিত। এর ভাস্কর্যশিল্পী জাহানারা পারভীন। স্তম্ভসহ ফিগারের মোট উচ্চতা ৩৪ ফুট। এটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে চুনাপাথর, সিমেন্ট, ব্ল্যাক আইচ, বালি, মডেলিং ক্লে প্রভৃতি। এই ভাস্কর্যে দেখা যায় মায়ের কোলে সন্তানের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ। পাশে সেøাগানরত ও মুষ্টিবদ্ধ হাতে একজন পুরুষের অবয়ব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই রয়েছে শিল্পী জাহানারা পারভীন নির্মিত ভাষা আন্দোলন স্মরণে আরেকটি ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটির নাম ‘ভাষা অমরতা’।

ঢাকার পরীবাগের মোড়ে বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে রয়েছে ভাস্কর্য ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’। ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা এই ভাস্কর্য ত্রিকোণাকৃতির একটি ভিত্তির ওপর স্থাপিত । এতে দেখা যায়Ñ এক মা তার গুলিবিদ্ধ সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৬ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে আরও দেখা যায়, মা ও সন্তানকে ঘিরে রয়েছে লাল ও সবুজ রঙের দুটি বৃত্ত। বৃত্তে আছে বাংলা বর্ণমালা। এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন শিল্পী মৃণাল হক।

২০১৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ নামে একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। একুশের ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনাবাহী এই ভাস্কর্যটির নকশা তৈরি করেন অলিম্পিক গোল্ডমেডেলপ্রাপ্ত শিল্পী খুরশীদ সেলিম। এটি নির্মাণ করেন শিল্পী মৃণাল হক। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে এই ভাস্কর্যটি স্থাপিত হয়। এতে দেখা যায়Ñ ভাস্কর্যের কেন্দ্রে একজন নারী এবং তাকে ঘিরে চার পুরুষ। পাঁচজনই মুষ্টিবদ্ধ হাতে সেøাগান দিচ্ছেন। পেছনে বর্ণমালা।

২০১৬ সালে রাজশাহীতে পদ্মার চরে গড়ে তোলা হয় একটি ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য। ৮০ ফুট জায়গা নিয়ে পদ্মার চরে এই ভাস্কর্য গড়ে তোলা হয়। এখানে শহীদ মিনার, একুশের ভাষাশহীদ, বর্ণমালার প্রতিকৃতি, ভাষা আন্দোলনের মিছিলের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। রাজশাহী আর্ট ক্লাবের উদ্যোগে এ ভাস্কর্য গড়ে তোলা হয়।

কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম-সংলগ্ন একুশে উদ্যানে ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা হয় ‘ভাষা স্মারক ভাস্কর্য’। ১৯৫২ সালের একুশের ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহীদদের স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্যের শিল্পী হলেন যোগেন চৌধুরী। এই ভাস্কর্যে দেখা যায়Ñ শহীদ ভাইয়ের মৃতদেহ কোলে বসে আছেন এক নারী। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটিকে থিম হিসেবে নিয়ে শিল্পী এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এই ভাস্কর্যে স্টিল ও ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close