বিএনপির মানববন্ধন

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন নয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন রূপ নেয় সমাবেশে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মানববন্ধনে বিএনপি নেতারা বলেন, ‘যতই ষড়যন্ত্র হোক খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’ একই দাবিতে আজ মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি।

এদিন মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে সমবেত হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি শেষ হয়।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও ও ফরিদপুরের সদরপুরে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয় ও ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে ঢাকার সাভার, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, টাঙ্গাইল, রংপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, নোয়াখালী, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহর থেকে।

এদিকে সকাল থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার পর মানববন্ধনস্থলের সামনের একপাশের রাস্তা নেতাকর্মীদের দখলে চলে যায়। খ- খ- মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে আসতে থাকেন। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, হেলেন জেরিন খান, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, বেবী নাজনীন, আবদুল মতিন, মহানগরের কাজী আবদুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, তানভীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ।

২০-দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও এলডিপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিমসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত যে, খালেদা জিয়াই দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। এই মুহূর্তে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার মুক্তি আমরা চাই। দেশনেত্রীকে নিয়েই আগামী নির্বাচনে যাব। তাকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। আমাদের সব নেতার সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, যত ষড়যন্ত্র হোক আগামীতে খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচন হবে। তাকে ছাড়া কেউ নির্বাচন চিন্তা করলে সেটি হবে দুঃস্বপ্ন।

মানববন্ধনের এই কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কাছাকাছি রাখা হয় জলকামানের গাড়িসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকটি মাইক্রোবাস।

আজ অবস্থান কর্মসূচি

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি। গত রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা জানান। তিনি জানান, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি হবে। সারাদেশে সুবিধা অনুযায়ী জেলা নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচি করবেন। আমাদের প্রিয় নেত্রীকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমরা কেউ বাড়িতে ফিরব না।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যেও পুলিশ কেন দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও লাঠিপেটা করছে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, সোমবার মানববন্ধন কর্মসূচির পর মৎস্য ভবনের কাছ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেপ্তার করায় নিন্দা জানাচ্ছি। রবিবার রাত থেকে এই পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে ৮৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪শ জনের অধিক। অবিলম্বে সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিও জানান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে