মাঠ ছাড়বে না বিএনপি

  নজরুল ইসলাম

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে দলটি; এর আগে মাঠ ছাড়বে না। তবে দলটির চেয়ারপারসন কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও যে মাঠ ছাড়বে, তা-ও নয়। তখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে আয়োজনের দাবিতে রাজপথ উত্তপ্ত করতে প্রস্তুত দলের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি চলবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও।

সূত্র বলছে, দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে চলতি মাসে ঢাকায় মহাসমাবেশ করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান, বিক্ষোভ, গণস্বাক্ষর, লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির প্রস্তাবনাও রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ বুধবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। জানা গেছে, বিএনপির পরবর্তী সব কর্মসূচি ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নানা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করাই আমাদের সংগ্রাম। নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাইÑ খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা আগামী নির্বাচনে যাব। তাকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।

দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান আমাদের সময়কে বলেন, কর্মসূচিতে বাধা দিলেও আপাতত পাল্টা কোনো প্রতিঘাতের চিন্তা নেই। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাতে চাচ্ছে, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে থাকলেও সরকার ‘শান্ত’ নয়। তারা নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। মামলা-হামলা করে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।

তবে তফসিল ঘোষণার আগে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এ মুহূর্তে শক্ত আন্দোলনে না যাওয়ার অন্যতম কারণ এটি। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কঠোর আন্দোলনে গেলে দলের শক্তি ক্ষয় হতো, এতে সরকারের শেষ পর্যায়ে আন্দোলনের সামর্থ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকতে।

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছেÑ নিয়মিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। গতকালও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে দলটি।

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি সাজানো। এই মামলায় সাজা দেওয়ায় খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং বেড়েছে। নেতাদের ভাষ্য মতেÑ দেশের মানুষই শুধু নয়, বিশ্ব সম্প্রদায়েরও বিশ্বাস, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য শাসক দলের প্রভাবিত; এ রায় যথার্থ নয়। নির্বাচনের বছর এমন রায় দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখা। এই সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যে অনৈক্য ছিল, সেটিও মিটে গেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দল চালানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সব দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করছেন তারেক। সব কার্যক্রম তার পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে হচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের দিক থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি তোলাসহ এ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। এতে করে হয়ত জামিনে বের হতেও সময় লাগবে। এর পরও আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি বুঝে-শুনে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাব। রায়ের পর সরকার মনে করেছিল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে। আর এই সুযোগটি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলা দিয়ে আটকিয়ে রাখবে; কিন্তু বিএনপি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে থাকায় দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরাও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশংসা করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার রায় দেওয়ার পর জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক ভাষায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একটি দেশের মন্ত্রী বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে কার্যকর গণতন্ত্র দেখতে চাই। দেশটির মন্ত্রী বলেছেন, তারা আইনের শাসন দেখতে চান। বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সন্দেহাতীতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এক ভাইস চেয়ারম্যান প্রায় একই তথ্য দিয়ে জানান, আমরা নির্বাচনে অংশ নেব; খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়েই। আমাদের আন্দোলন হবে নির্বাচনমুখী। অর্থাৎ নির্বাচন কেন্দ্র করে আন্দোলনের গতি তরান্বিত হবে।

বিএনপির ব্রিফ : গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা কামনা

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি, মামলার প্রকৃতচিত্র, রায়ের সার্টিফায়েড কপি নিয়ে টালবাহানা, জামিন নিয়ে শঙ্কাসহ এ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে গতকাল বিকালে কূটনীতিকদের ব্রিফ করে দলটি। কূটনীতিকদের উদ্দেশে বিএনপি নেতারা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নীলনকশার অংশ হিসেবে একটি ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। এখানে বিরোধী মত ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। তাই বন্ধু দেশ হিসেবে আপনাদের প্রতি আমাদের অনুরোধÑ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপনারা সহযোগিতা করবেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারেক রহমানের নির্দেশনায় অহিংস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। এখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর এই লড়াই জয়ের দ্বারপ্রান্তে। মামলাটি করার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এটি রাজনৈতিক রায়। মাইনাস টু ফর্মুলার উদ্দেশ্যে ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের এই মামলা।

চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সৌদিআরব, জাপান, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৫টি দেশ-সংস্থার রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা ছিলেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে