১২৯ জনকে জেলা জজে পদোন্নতির সুপারিশ ফুলকোর্ট সভায়

  কবির হোসেন

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ১৪৮ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২৯ জনকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করে পদোন্নতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতির উপস্থিতিতে বুধবার বিকালে সুপ্রিমকোর্টের প্রশাসনিক ভবনে এ ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদানের প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর তাদের পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলেন সর্বোচ্চ আদালত।

সূত্র জানায়, পদোন্নতির সুপারিশপ্রাপ্ত ১২৯ জনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা জজ অরুণাভ চক্রবর্তীর জেলা জজ পদে পদোন্নতির শর্ত হিসেবে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে এক বছর বিচারিক কাজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। আগামী ৩১ মে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে তার বিচারিক কর্মকাল এক বছর পূর্ণ হবে। এই এক বছর বিচারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের শর্তপূরণ সাপেক্ষে তাকে পদোন্নতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য থাকা, বিভাগীয় শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়াসহ নানা কারণে আটজনকে পদোন্নতি প্যানেলভুক্ত না করার এবং একজনের পদোন্নতি প্যানেলভুক্তির বিষয়টি মূলতবি রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অবসরে গমন, চাকরিচ্যুত হওয়াসহ নানা কারণে ১০ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্যানেলভুক্তির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, ফুলকোর্ট সভায় ১৮তম বিসিএসের অতিরিক্ত জেলা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি প্যানেলের অনুমোদন হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৮তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের পদোন্নতি প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তারা হলেনÑ কাজী এএম জয়নাল আবেদীন, মো. নাজির আহমেদ, মঞ্জুরুল হক খান, নুরুল ইসলাম, এসএম নাসিম রেজা, মোহাম্মদ তৌফিক আজিজ, মো. আল মামুন ও একেএম এনামুল করিম। তাদের বেশ কয়েকজনের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে একাধিক বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান ও কেউ কেউ বিভাগীয় শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া এই ব্যাচের ১০ অতিরিক্ত জেলা জজের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তারা হলেনÑ চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম ও মঈনুল হক, মৃত্যুবরণ করায় মো. নূর আলী ও মো. আবদুর রশিদ, পিআরএলএ যাওয়ায় সৈয়দ হুমায়ূন আজাদ, জাহানারা বেগম, প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, মো. আবদুল হামিদ ও মো. মাহবুবুল আলম, ইতোমধ্যে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পাওয়ায় মোহাম্মদ ইসমাইলের ব্যাপারে ফুলকোর্ট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন হয়।

সভায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিচারপতিদের সময়মতো এজলাসে বসার ও দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করার অভিমত ব্যক্ত করেন। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের দুর্নীতি-অনিয়ম ও বিচারপতিদের নানা বিষয় নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটিও সভায় উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ১০৮ অতিরিক্ত জেলা জজকে জেলা জজ পদে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠায় সুপ্রিমকোর্টে। এর পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভা থেকে ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জেলা জজ পদে পদোন্নতির জন্য শর্ত শিথিল করে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে বিচারিক কাজের অভিজ্ঞতা দুই বছরের জায়গায় ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়।

ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর। বিষয়টি নিয়ে গেজেট প্রকাশ করতে বলা হয় চিঠিতে। তবে সুপ্রিমকোর্ট থেকে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জেলা জজ পদে পদোন্নতির প্যানেল চূড়ান্ত করার কাজও আটকে যায়।

এর পর বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগের পর আইন মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় শর্ত শিথিলের আগের সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করা হয়। এতে ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে আরও কয়েকজন বিচারকের এসিআর আসার পর তাদেরও পদোন্নতির প্যানেলভুক্তের তালিকায় রাখা হয়।

১৪৮ জনের পদোন্নতির ব্যাপারে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে এবং হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির উপস্থিতিতে এক বাছাই কমিটির বৈঠক বসে। বাছাই কমিটির ওই বৈঠকে এসব অতিরিক্ত জেলা জজের পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করার জন্য বাছাই করে। গতকাল বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত ফুলকোর্ট সভা অনুমোদন করে।

জানা গেছে, এখন ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্তটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এর পর মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতির প্যানেলভুক্তদের শূন্যপদে পদায়ন করবে। বর্তমানে নতুনভাবে সৃষ্ট ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রয়োজনীয় পদসহ প্রায় ১০০ জেলা জজের পদ শূন্য রয়েছে। এখন শিগগিরই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে