গোয়েন্দা নজরদারিতে প্রশ্নফাঁসের হোতারা

  হাবিব রহমান

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নফাঁস চক্রের চুনোপুঁটিদের বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতারা এতদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এবার মধ্যম সারির কয়েকজন ও মূলহোতাদের একজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সবাই বর্তমানে রয়েছেন গোয়েন্দা নজরদারিতে। প্রশ্নফাঁসে জড়িত এসব দুর্বৃত্তকে ধরার কাজ চলছে।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পাঁচ ধাপে বিভক্ত হয়ে চলে প্রশ্নফাঁস অপকর্ম। ফেসবুকে চালানো হয় প্রচারণা। এরপর টার্গেট ঠিক করে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হয়। সেখানেই অর্থ লেনদেনের পর করা হয় প্রশ্নপত্র। প্রতিটি প্রশ্নপত্র ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চক্রের অনলাইনে প্রশ্ন বিকিকিনি গ্রুপের বেশ কিছু সদস্য ইতোমধ্যে আইনের আওতায় এসেছে। তবে মূলহোতাদের ধরতে চলছে গোয়েন্দা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে মধ্যম সারির বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মূলহোতাদের একজনের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব তথ্য ব্যবহার করে মূলহোতাদের ধরার প্রক্রিয়া চলছে।

গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তর, র্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে প্রশ্নফাঁস চক্রের ১৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি ধাপে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এর মধ্যে অনলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি করছে যারা তারা তালিকার একেবারে শেষ দিকে। তারা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করে থাকে। এ জন্য বিভিন্ন গ্রুপ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মিসাইল গ্রুপ ও আইসিটি গ্রুপ অন্যতম। তবে এসব গ্রুপের কাছে প্রশ্নফাঁসকারীরা এখনো ধরা পড়েনি। এমনকি প্রশ্নফাঁসকারী এসব ফেসবুক গ্রুপের মূল এডমিনও ধরা পড়েনি। তাদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারে চক্রের মূলহোতারা।

সূত্র জানায়, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এ চক্রের সদস্য আনিছুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তিনি। হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস চক্রে যোগ দেন। প্রশ্ন বিক্রির টাকার একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে নিয়ে নেন গ্রুপের এডমিনরা। তিনি কার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেতেন সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন সব কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে র্যাব।

প্রশ্নফাঁস বিষয়ক মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ফেসবুকের চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপকে নিরাপদ মনে করছে প্রশ্নফাঁসকারীরা। তাই ফেসবুকের মাধ্যমে পরিক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ওই পরীক্ষার্থীকে হোয়াটসঅ্যাপের নির্দিষ্ট গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন প্রশ্নফাঁসকারী র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু তাদের প্রায় সবাই সাইবার মাধ্যমের বিকিকিনি করতেন। কিন্তু মূল জায়গা থেকে প্রশ্নফাঁস করে এই চক্রের হাতে পৌঁছে দেওয়া ব্যক্তিদের আটকের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের ধরতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।

এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, প্রশ্নফাঁসকারীদের ধরতে তৎপর রয়েছে র্যাব। এই চক্রে যত শক্তিশালী ব্যক্তিই থাকুক না কেন ছাড় পাবে না কেউ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে