শান্তিপূর্ণ অনশন পুলিশি বাধ্যবাধকতায় ৩ ঘণ্টা আগেই শেষ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনে সারা দেশে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশি বাধ্যবাধকতার কারণে তিন ঘণ্টা আগেই কর্মসূচি শেষ করে দলটি। এতে দলের নেতারা বলেন, ভুয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকার তাকে জেলে রেখে নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনেও যাব।

গতকাল বিকাল ৪টায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে বসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ তাদের জোটসঙ্গী দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আহমদ নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। কর্মসূচির শেষ দিকে জামায়াত নেতা আবদুল হালিমকে দেখা যায়।

অনশন কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন ও জলকামানের গাড়ি ছিল। ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও অনশন করেন গ্রেপ্তার এড়াতে ‘অবরুদ্ধ’ দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ অন্য নেতা ও কার্যালয়ের স্টাফরা। তাদের শরবত পান করিয়ে অনশন ভাঙান সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ অন্য বিভাগ ও জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সালাহউদ্দিন আহমেদ, নিতাই রায়চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, সাখাওয়াত হাসান জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, সাইফুল আলম নীরব, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনশন কর্মসূচিতে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে গ্রেপ্তারের জন্য পিছু নেয়। গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরে পড়েন সোহেল।

কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে সকালে সেগুনবাগিচা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহীনসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনশন থেকে খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সব ধরনের নির্যাতনমূলক কর্মকা- থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে।

মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায় আমরা মানি না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেত্রীকে দুর্বল করতে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

২০-দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক আখতার হোসেন খান।

সিলেট প্রতিনিধি জানান, বিএনপির অনশন কর্মসূচিতে পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা প্রদানের অভিযোগ ওঠে। বিএনপি নেতাদের দাবি, পুলিশের বাধার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের কর্মসূচি শেষ হয়। তবে পুলিশের দাবি, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে বিএনপি নেতাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। বুধবার সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে ছয় ঘণ্টার এ অনশন কর্মসূচি শেষ হয় মাত্র তিন ঘণ্টায়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশের বাধার কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আমরা কর্মসূচি শেষ করতে বাধ্য হয়েছি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেনের দাবি, বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করানো হয়েছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close