রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এতিমখানার ঠিকানা কোথায়

  আলী আসিফ শাওন ও আমজাদ হাসান শিমুল, রাজশাহী থেকে

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ‘চোরের জন্য আন্দোলন’ বলে অবিহিত করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ট্রাস্টের টাকা এতিমদের জন্য ব্যয় না করে খালেদা জিয়ার পরিবার এবং বিএনপি নেতারা লুটপাট করে খেয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চানÑ এতিমখানার ঠিকানা কোথায়? কতজন এতিম সেখানে থাকে? তারা কী একটা টাকাও পেয়েছে? গতকাল রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলে নৌকা মার্কায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছে। কেন হয়েছে? সেই ১৯৯১ সালে এতিমখানা তৈরি করবে বলে বিদেশ থেকে টাকা এনেছে। কিন্তু এতিমখানা কই, কেউ ঠিকানা জানে না। সেই টাকা নয়ছয় করে লুটপাট করে খেয়েছে। আজকে প্রায় ২৭ বছর পর বলেÑ না টাকা তো আছে; সুদে আসলে বেড়েছে। এতিমের টাকা এতিমের হাতে যায়নি। সে টাকা লুট করেছে। আজকে মামলা দিয়েছে কে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় তার সাজা হয়েছে।

বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকে বিএনপি নেতারা আন্দোলন করছেন। টাকা চুরি করে তাদের নেত্রী জেলে গেছে। এই আন্দোলন চোরের জন্য। কোরআন শরিফেও নিষেধ আছেÑ এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া। খালেদা জিয়া ২৭ বছরেও এতিমের ভাগ দিতে পারেনি। নিজের কাছে রেখে দিয়েছে।

রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভাকে ঘিরে শহরে ছিল উৎসবের আমেজ। পার্শ¦বর্তী জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনসভায় অংশ নেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণে ছেয়ে ছিল জনসভার মাঠ। নৌকার আদলে নির্মিত বিশাল সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মণি প্রমুখ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও ডাবলু সরকার। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নাটোর থেকে জনসভাস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সভামাঠ থেকে আটটি নতুন থানাসহ রাজশাহীতে ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৩টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ৯ বছরে রাজশাহীতে শেখ হাসিনার পঞ্চম সফর এটি। নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বিকালে জনসভাস্থলে পৌঁছেন তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত আমলে এ এলাকা ছিল সন্ত্রাসী-জঙ্গি বাংলা ভাইদের অভয়ারণ্য। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে ও নিরাপদে চলতে পারত না। এ রকম একটি অবস্থা তারা সৃষ্টি করেছিল দেশব্যাপী। মানুষকে খুন করাই বিএনপি-জামায়াতের কাজ। এই বিএনপি মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। লুটপাট করে খেতে পারে। আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন, মানুষকে পুড়িয়ে যারা হত্যা করতে পারে, তারা দেশের কী মঙ্গলটা করবে? এ সময় বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যেখানে জনকল্যাণে কাজ করি, সেখানে তারা মানুষের সম্পদ লুটে খায়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণ হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা একবার নিজেরাই বিচার করে দেখুন, কেউ যদি এতিমের টাকার লোভ সামলাতে না পারে, তারা দেশের মানুষকে দেবেটা কী?

রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই রাজশাহীতে প্রথম আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র নির্বাচিত হলেন খায়রুজ্জামান লিটন। তখন আপনারা দেখেছেন ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গত মেয়র ইলেকশনে লিটন জিততে পারেনি। বিএনপির মেয়রকে উন্নয়ন প্রকল্প দিয়েছি, কিন্তু সেগুলো তেমনভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

আগামী রাজশাহী সিটি নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বলেন, আগামীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। জাতীয় সরকার নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। স্থানীয় সরকারসহ প্রত্যেকটা নির্বাচনে মার্কা দিয়ে নির্বাচন হবে। মার্কাটা কীÑ নৌকা। নৌকা মার্কায় আমি আপনাদের কাছে ভোট চাই। যে উন্নয়ন করে যাচ্ছি সেটি যেন অব্যাহত থাকে। মানুষ যেন খেয়েপরে সুখে-শান্তিতে থাকে। তার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেন।

গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে: সেনাবাহিনীকে প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে সেনাবাহিনীকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখীসমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। আমরা চাই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকুক।

গতকাল নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র সংবিধান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী সকালে ঢাকা থেকে কাদিরাবাদ সেনানিবাসে পৌঁছলে সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তাকে স্বাগত জানান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে