ডটার অব বাংলাদেশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:৩৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা বিমানের সহকারী পাইলট পৃথুলা রশিদ। ভস্মীভূত বিমান থেকে শেষ মুহূর্তে বের হয়ে আসার সুযোগ থাকলেও অন্য যাত্রীদের সুযোগ দিতেই আটকা পড়েন তিনি। এর পর নিজেই আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে মারা যান। কিন্তু নিজের জীবনের বিনিময়ে বীর এই নারী পাইলট বাঁচিয়ে গেছেন ১০ নেপালি যাত্রীর প্রাণ। নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল সাইটে ‘ডটার অব বাংলাদেশ’ আখ্যা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে এই মহীয়সীকে।

সিকিম মেসেঞ্জার নামের ভারতীয় একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজেও পৃথুলার ছবি দিয়ে তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হয়। প্রায় পাঁচ হাজারের মতো শেয়ার, ১৫ হাজার লাইক ও কয়েক হাজার কমেন্ট করা হয় স্ট্যাটাসটিতে। এ ছাড়া ভারত ও নেপালের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল সাইটগুলোয়ও দেখা যায় পৃথুলাকে নিয়ে শোকগাথা, তার আত্মত্যাগের বর্ণনা। উপাধি দেওয়া হয় ‘ডটার অব বাংলাদেশ’।

পৃথুলার এমন মৃত্যুতে হতবিহ্বল তার পরিবার। শোকে স্তব্ধ স্বজনরা। ফেসবুকে তার স্বজন তাসমিন রহমান অমি লেখেন, ‘পৃথুলা যেখানেই থাক ফিরে আস। এটা ঠিক না, ফিরে আস।’ তানজিমুর অঙ্কুর বোন পৃথুলার সঙ্গে থাকা শৈশবের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘আমাদের পরিবার কঠিন সময় পার করছে।’ তিনি তার বোনের জন্য সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন।

দুর্ঘটনার মাত্র এক দিন আগে বন্ধু আসিফের কাছে পৃথুলা বায়না ধরেছিলেন বাইরে খাওয়ার জন্য। সেই স্মৃতি উল্লেখ করে আসিফ লিখেনÑ বাইরে যাবি না দোস্ত? মাত্র কালকেই না বললি তোর বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে? প্লিজ বল, আমি যা শুনছি সবকিছু মিথ্যা। প্লিজ বল তুই সুস্থ আছিস। আর কোনোদিন সময়ের দোহাই দেব না দোস্ত, যখনই বলবি তখনই তোকে নিয়ে যাব বাইরে। প্লিজ বল, তুই ঠিক আছিস। প্লিজ প্লিজ। আমি কাঁদতে পারছি না দোস্ত, প্লিজ কামব্যাক, প্লিজ...।’ পরক্ষণেই তিনি লিখেনÑ ‘আকাশে খুঁজে নেব তোকে। ভালো থাকিস দোস্ত।’

রাজধানীর বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ও আধুনিক ভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে পৃথুলা ভর্তি হন বিমান চালানো প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। সফল কোর্স শেষে ২০১৬ সালে সহকারী পাইলট হিসেবে যোগ দেন ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে