দাদির কোলে হিয়া

  হাসান আল জাভেদ

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০১:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহপরিচারিকার হাতে চুরি নয়, খালার বাসায় ছিল নিহত কেবিন ক্রু ফারহিন নাবিলার মেয়ে ইনায়া ইমাম হিয়া। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সেই বাসা থেকে শিশুটিকে উত্তরা পশ্চিম থানায় আনা হয়। পরে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার দাদির কোলে।
পুলিশ বলছে, নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে উত্তরার বাসা থেকে হিয়াকে নিয়ে রাখা হয় তার খালার বাসায়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন তারা। এমনকি বাসার গৃহপরিচারিকা রুনা রহস্যজনক কারণে আত্মগোপনে চলে যান। তবে মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েকে নিয়ে দুই পরিবারের এই লুকোচুরি কেন, সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৭১ আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৫০ জন। মঙ্গলবার সকালে এয়ারলাইনসটির প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, নাবিলা আমাদের কেবিন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনিও মারা গেছেন।
নাবিলা ফারহিনের মেয়ে ইনায়া ইমাম হিয়া। ঘটনার খবর পেয়েই নাখালপাড়ার বাসা থেকে সোমবার দুপুরে আড়াই বছর বয়সী হিয়াকে আনতে উত্তরার বাসায় ছুটে যান দাদি ও চাচা। কিন্তু বাসা তালাবদ্ধ দেখে গৃহপরিচারিকার খোঁজ করেন তারা। তাকে না পেয়ে নাবিলার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু শিশুটির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান তার নানি ও খালারা। নাতিকে না পেয়ে হিয়ার দাদি সোমবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ জানায়, জিডির পর তারা দ্রুত গৃহপরিচারিকা রুনাকে খুঁজতে থাকেন। এর পর রুনা ও তার স্বামীকে আটক করে থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে চুরির বিষয় অস্বীকার করেন। পরে বিভিন্নভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়, হিয়া তার খালার কাছে রয়েছে। নানাবাড়ির লোকজনকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করলে শেষ পর্যন্ত গতকাল দুপুরে তারা শিশুটিকে থানায় পাঠাতে বাধ্য হয়। সব যাচাইবাছাই শেষে রাতে ছোট্ট হিয়াকে তুলে দেওয়া হয় তার দাদির কোলে।
হিয়ার বড় চাচি ফাতেমা হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর তিন বছর ৮ মাস আগে আমার দেবর বেলাল হোসেন ও নাবিলা গোপনে বিয়ে করেন। এতে দুই পরিবারের কেউ ওদের মেনে নেয়নি। এক পর্যায়ে হিয়া জন্ম নিলে আমার শাশুড়ির কিছুটা মন গলে। তিনি বিভিন্ন সময় হিয়াকে নিয়েও আসতেন। আবার আমার জা (নাবিলা) বিমানে গেলে মেয়েকে আমাদের বাসাতেই দিয়ে যেতেন। কিন্তু এত বছরেও নাবিলাকে তার বাবার বাড়ির পরিবার মেনে নেয়নি।
ফাতেমা হোসেন আরও বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পর আমার শাশুড়ি নাবিলার মা ও খালার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদের হেফাজতে যে হিয়া রয়েছে, তারা সেটি অস্বীকার করেন। কেন এই লুকোচুরির ঘটনা, সে বিষয়ে সন্দিহান ফাতেমা।
বেলাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। তিনি প্রকাশনার ব্যবসা করেন। ব্যবসায়িক কাজে ৩ থেকে ৪ দিন আগে ভারতে গেছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দেশে ফেরেননি। অন্যদিকে নাবিলার বাড়ি নরসিংদীতে। দুজনের বাবাই মৃত। তাই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নাবিলার মরদেহ আনতে গতকাল সকালে নেপাল গেছেন বাবলু হোসেন।
উত্তরা পশ্চিম থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন বলেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর শিশুটির খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ওই গৃহকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে নিশ্চিত হতে পারি, শিশুটিকে নিয়ে গেছে তার খালা। এর পর শিশুটির খালার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে জানতে পারি যে, হিয়া তার কাছেই আছে।
নিখোঁজ থাকার দুটি কারণ থাকতে পারে এমন ধারণা নিয়ে ওসি বলেন, প্রথমত শিশুটির মা মারা গেছেন। সে কারণে নিরাপত্তার জন্য তার খালা তাকে নিয়ে যেতে পারেন। দ্বিতীয়ত সম্পত্তি নিয়ে কোনো ঝামেলাও থাকতে পারে। তবে আমরা কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টায় আছি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে