চলে গেলেন ক্যাপ্টেন আবিদ

বাবাও ছিলেন পাইলট

  মো. মাহফুজুর রহমান

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের চিফ পাইলট কাপ্টেন আবিদ সুলতানকে নিয়ে গতকাল সকাল পর্যন্তও আশাবাদী ছিল পরিবার। কিন্তু সে আশা দুরাশায় পরিণত হয়ে কিছুক্ষণ পরই আসে তার মৃত্যুর সংবাদ। এর পর থেকেই উত্তরার ভাড়া বাসায় স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। একমাত্র ছেলে মাহি স্বজনদের গলা জড়িয়ে কাঁদছিল। বারবার বলছিল, বাবা একটিবারের জন্য হলেও ফিরে এসো।

সদ্যপ্রয়াত আবিদের বাবা এমও কাশেমও পাইলট ছিলেন। বাবার পেশাই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। যোগ দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে। ১৯৯৪ সালে অবসরের পর বেসরকারি এয়ারলাইসসেও দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজ পরিচালনা করে আসছিলেন সদ্যপ্রয়াত এই পাইলট। গতকাল দুপুরে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আবিদের ভাড়া করা বাসার সামনে কথাগুলো বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পাইলট ইমতিয়াজ আহমেদ।

তিনি বলেন, আবিদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা সিভিল এভিয়েশন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না। উড্ডয়নের ৩ ঘণ্টা আগেও যদি পাইলট কোনো কারণে ফ্লাইংয়ে অনীহা প্রকাশ করেন, তাকে বিরত রাখা হয়। এ জন্য বরাবরই বাধ্যতামূলক একজন স্ট্যান্ডবাই পাইলট প্রস্তুত রাখা হয়।

এদিকে ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম টপি (৩৮) শোকে পাথর। তেমন কথা বলছেন না। নির্বাক তার দুচোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি অশ্রুবিন্দুই যেন বলছিলÑ এভাবে চলে যেতে নেই। অস্পষ্ট কণ্ঠে শুধু বললেন, বড় অসময়ে আবিদ চলে গেল। কাজপাগল এই মানুষটাকে হারিয়ে শুধু আমাদের না, দেশেরও অনেক ক্ষতি হলো। এভাবে আবিদের চলে যাওয়া অপূরণীয়। কোনো কিছুতে তা পূরণ হওয়ার নয়। আমার আর কিছু বলার ভাষা নেই। শুধু দোয়া করবেন ও যেন জান্নাতবাসী হয়।

সদ্যপ্রয়াত আবিদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলায়; শ্বশুরবাড়ি নাটোরে।। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৮২ সালে একই বিদ্যায়তন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৮৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৫ সালের ৬ মার্চ তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে যোগ দেন।

কথা হয় আবিদের সহোদর খুরশিদ মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, এমন করে চলে যাওয়া কল্পনাতীত। ও খুব ইনোসেন্ট এবং দক্ষ। ওর মতো মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ে যাবে, ভাবনাতীত। ওপারে ভালো থাকুক আবিদ, এই দোয়া করি। ওর একমাত্র সন্তান মাহি এবার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। অসময়ে ও এতিম হলো। আমরা ভাই হারালাম। ও খুব পারদর্শী, এক্সট্রা অর্ডিনারি। এমন দুর্ঘটনা মানতে পারছি না।

খুরশিদ বলেন, নিহত প্রতিপরিবারকে যেন যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেন তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে