আ.লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী

ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে নামান

  আলী আসিফ শাওন

১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০১:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যাংকগুলোকে কেবল নিজেদের মুনাফাবৃদ্ধির চিন্তা না করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে এই খাতসংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চলতি বছর নির্বাচনের বছর হলেও শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণের কোনো অযৌক্তিক প্রস্তাব সরকার মানবে না বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। গতরাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে উপস্থিত নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।   
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আওয়ামী লীগের করণীয় নির্ধারণ করতে বৈঠক ডাকা হলেও দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, দেশের ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় উপস্থিত দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং ব্যবসায়ী নেতা কাজী আকরাম উদ্দিনকে এ বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেন। ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ১ অঙ্কে অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বার্ষিক উচ্চ মুনাফা এবং ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মোটা অঙ্কের বেতন নিয়েও কথা ওঠে বৈঠকে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অনেকের চেয়ে ব্যাংকের সিইওরা বেশি বেতন পানÑ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রশ্ন তোলেন। তারা দাবি করেন, ব্যাংকের সব মুনাফা ব্যাংকের মালিক এবং এসব সিইও লুটে নিচ্ছেন। জনগণের জন্য ব্যাংকগুলো কিছুই করছে না।
বৈঠকে তারা আরও বলেন, আমেরিকার ব্যাংকগুলোর দেউলিয়া হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ব্যাংকের সিইওদের উচ্চ বেতন কাঠামো। ওবামা প্রশাসন ক্ষমতায় এসে সিইওদের বেতন কমিয়ে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। এ আলোচনায় অন্যদের মধ্যে দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা আরও বলেন, চাকরি সরকারীকরণের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন-অনশনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সামনে। আমরা ভোটে জেতার জন্য কারো অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবÑ এটি যেন কেউ মনে না করে। ভবিষ্যতে সরকারি শিক্ষক নিয়োগে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে চাকরির পরীক্ষা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নির্ধারিত হবে। কোনো অযৌক্তিক আন্দোলন মানবে না সরকার।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ ও ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্যানেল চূড়ান্ত করেছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতি পদে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদকে দলীয় সমর্থন দেন তিনি। আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে হুমায়ুন-মোর্শেদ প্যানেলকে বিজয়ী করতে মাঠে নামতে বলেন তিনি।
এ ছাড়া বৈঠকে সদ্য অনুষ্ঠিত গাইবান্ধা উপনির্বাচন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপনির্বাচনের ফল নিয়ে আলোচনা হয়। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ জানিয়ে ওই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলেন, গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-জাতীয় পার্টি সব এক হয়ে নেমেছিল। এর পরও খুব অল্প ভোটে হেরেছি আমরা।
চলতি মাসের ২২ তারিখে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে জানিয়ে দিনটিকে উৎসবমুখরভাবে উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
অন্যদিকে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান দুর্ঘটনার সময় চার দিনের সফরে সিঙ্গাপুর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পরই আমি সিঙ্গাপুর সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসি। আমার মনে হয়েছিল, এ সময় আমার দেশে থাকা প্রয়োজন। কারণ বহু বছর আমাদের দেশে এ রকম ঘটনা ঘটেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে একটি মেডিক্যাল টিম এবং ডিএনএ সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানো হচ্ছে। কারণ আগুনে পোড়া কিছু লাশ ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া শনাক্ত করা কঠিন। তা ছাড়া আমরা নেপালে খুব বেশি লোক পাঠাতে পারব না। কারণ তাদের ওপর চাপ পড়ে যাবে। তবে যা যা লাগবে তার সহায়তা আমরা দেব।
বিমান দুর্ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা, আমাদের দলের সিআরআইয়ের ৫ নম্বর অফিসে কাজ করত একটা ছেলে, তার স্ত্রী এবং বাচ্চা, সবাই মারা গেছে। আহতদের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকের অবস্থা এমন যে ওখান থেকে নিয়ে আসারও উপায় নেই। ইতোমধ্যে আমাদের বিমানমন্ত্রী নেপালে গেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। করণীয় বিষয়ে আলোচনা করছেন।
গণভবনের ব্যাঙ্কোয়েট হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে এইচটি ইমাম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, রাশিদুল আলম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, দেলোয়ার হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, ওমর ফারুক চৌধুরী, মোল্লা আবু কাওছার, অপু উকিল, সাইফুর রহমান সোহাগ, এসএম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে