• অারও

মাহমুদউল্লাহর ছক্কায় নাটকীয় জয়

শ্রীলংকাকে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

  এম.এম. মাসুক

১৭ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৮, ১১:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১২ রান দরকার। স্ট্রাইক প্রান্তে ‘নতুন’ ব্যাটসম্যান মোস্তাফিজ, নন-স্ট্রাইক প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ। বোলার বাঁহাতি পেসার ইসুরু উদানা। প্রথম বলটি ডট। পরের বলে রান-আউট মোস্তাফিজ। সমীকরণ কঠিন থেকে কঠিনতর হলো। দ্বিতীয় বলটি নিয়ে এরই মধ্যে মাঠে দেখা গেল হট্টগোল। বাংলাদেশের পরিবর্তিত ফিল্ডারের সঙ্গে তর্কে জড়ান লংকান ফিল্ডার। এ নিয়ে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেন মাঠে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসে সাকিবও আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে মাহমুদউল্লাহদের মাঠ থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন সাকিব। মাঠের বাইরে সাকিব উত্তেজিত হলেও মাথা ঠা-া রাখেন মাহমুদউল্লাহ, মাঠ থেকে বের হননি। ব্যাট-হেলমেট নিয়ে রাগে সাকিবকে সাজঘরমুখী হতে দেখা যায়। আসলে ঘটনাটা কী ঘটেছিল, তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে উদানা ওভারের প্রথম দুটি ডেলিভারিতে মাহমুদউল্লাহর কাঁধের ওপর দিয়ে বল চলে যায়। আম্পায়ারকে কোনো সংকেত দিতে দেখা যায়নি।
কিছুক্ষণ পর খেলা আবার শুরু হয়। ম্যাচে তখন রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। সমীকরণ ৪ বলে দরকার ১২ রান। প্রথম বলে চার, পরের বলে দুই রান নেন মাহমুদউল্লাহ। তৃতীয় বলে দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকিয়ে এক বল হাতে রেখেই বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় উপহার দেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়ে এখন নতুন উদ্যাপন ‘সর্পনৃত্য’। মাহমুদউল্লাহর ছক্কার পর পুরো দেশ মেতে ওঠে এ সর্পনৃত্যে। ২ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ১৮ মার্চ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। ১৮ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচশেষে জানান, এটা ছিল তার অন্যতম সেরা ইনিংস। যতটা সম্ভব হয়েছে পরিকল্পনা করে খেলেছেন। ম্যাচশেষে সাকিব জানান, এমন উত্তেজনাপূর্ণ ও আবেগময় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আশা করেননি। শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। সাকিব আরও জানান, ব্যাটিংয়ের জন্য শতভাগ ফিট ছিলেন না, তাই শঙ্কা ছিল। সাকিব বলেন, অধিনায়ক হিসেবে আমাকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। পরবর্তী সময়ে আমি সতর্ক থাকার চেষ্টা করব।
তামিম বলেন, ম্যাচের শেষটা খুবই আবেগময় হয়েছে। লেগ আম্পায়ারকে নো বলের সংকেত দিতে আমরা দেখেছিলাম। নো বলের বিষয়ে অভিযোগ করেছিলাম। শেষটা আমরা সুন্দরভাবে করতে পারতাম। এমন অপ্রীতিকর ঘটনা তৈরি হতো না।
আগে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৯ রানের স্কোর গড়েছিল শ্রীলংকা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুর দিকে ২ উইকেট হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৩৩ রানের মধ্যে লিটন ও সাব্বির (১৩) সাজঘরে ফেরেন। তবে তৃতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম ৬৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে নিয়ে যান। মুশফিক ব্যক্তিগত ২৮ রানে সাজঘরে ফেরার পর তামিমও দ্রুত উইকেট হারান। ৪১ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পরই সাজঘরে ফেরেন তামিম। উইকেটে এসে দ্রুত উইকেট হারান সৌম্য সরকারও। দলীয় ১০৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে জয় দেখছিল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে সাকিব সেভাবে ফিরতে পারেননি। দলীয় ১৩৭ রানে সাকিব আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য জয়ের সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ২৩ রান প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের। এরপর মিরাজ-মোস্তাফিজ আউট হলেও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং-বীরত্বে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
হারলেই নিদাহাস ট্রফি থেকে বিদায় নিতে হবেÑ এমন সমীকরণ সামনে রেখে গতকাল পরস্পরের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা। অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে দীর্ঘদিন পর সাকিব আল হাসান দলে ফেরায় বাংলাদেশ উজ্জীবিত ছিল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নন, এ ম্যাচে টস করেন অধিনায়ক সাকিব। আগে ফিল্ডিং বেছে নেন। সাকিবের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন বোলাররা। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আঙুলে চোট পাওয়ায় ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারেননি। নিদাহাস ট্রফিতে খেলা নিয়ে সাকিবের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে দলে ফিরেছেন এই বিশ্বতারকা। তাতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে একাদশ থেকে বাদ পড়েন আবু হায়দার রনি। মাঠে ফিরেই ধারালো বোলিং করেন সাকিব। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে নেন। এ ওভারে ৩ রান দেন। তবে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই লংকান ওপেনার গুনাথিলার উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। এরপর বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে বিপদে পড়ে শ্রীলংকা। নিজের প্রথম দুই ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। মোস্তাফিজের বলে কুশল মেন্ডিস সৌম্যের হাতে এবং দুসান শানাকা ক্যাচ দেন মুশফিকের হাতে। এর মধ্যে উপুল থারাঙ্গা কোনো রান না করে রান-আউট হন। অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ দেন জীবন মেন্ডিস। দলীয় ৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলংকা। তবে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন কুশল পেরেরা ও থিসারা পেরেরা জুটি। ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন কুশল পেরেরা। ৪০ বলে ৬১ রান করে আউট হন তিনি। সেøা ওভার রেটের গুরুতর অপরাধে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের বিপক্ষে গতকাল খেলতে পারেননি দিনেশ চান্ডিমাল। তার পরিবর্তে লংকান দলকে নেতৃত্ব দেন থিসারা পেরেরা। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেন থিসারা। ব্যক্তিগত ৫৮ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দুই পেরেরার ব্যাটিং-নৈপুণ্যেই লড়াকু স্কোর পায় শ্রীলংকা। তবে শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশ।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে