ফাঁকিবাজ চিকিৎসক-নার্স ধরবেন ৭৫ কর্মকর্তা

  দুলাল হোসেন

১৮ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিয়মিত কর্মস্থলে যান না মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলা হাসপাতালসহ সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আর এতে মারাত্মকভাবে বিঘিœœত হয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। মন্ত্রণালয় থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। এমনকি বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়েও উপস্থিতি বাড়ানো যায়নি। তাই উপায় না দেখে উপস্থিতি মনিটরিং করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৭৫ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একেকজন কর্মকর্তা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এক বা একাধিক হাসপাতাল। পরিদর্শন শেষে দাখিল করতে হবে প্রতিবেদন। গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-৪ (মনিটরিং ও সমন্বয়) অধিশাখার উপসচিব মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।

চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য ও বিশ্বস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতাল বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিটের অতিরিক্ত সচিবকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঔষধ প্রশাসন ও আইনের অতিরিক্ত সচিবকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, উন্নয়নের অতিরিক্ত সচিবকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিবকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাজেট বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে বরিশাল জেলা হাসপাতালসহ জেলার সব উপজেলা হাসপাতাল, প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিবকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালসহ জেলার সব উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু এ কয়েকজনই নয়, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী ও সহকারী সচিব পর্যায়ের ৭৫ কর্মকর্তা দেশের সব সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব পেয়েছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাসের যে কোনো দিন আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। পরির্দশনকালে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত, সার্বিক সমস্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে হাসপাতাল প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। অতিরিক্ত সচিবরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মস্থলে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করার। আবার বিলম্বে উপস্থিতি হয়েও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থান করেন না। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করারও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মো. হাবিবুর রহমান খান আমাদের সময়কে বলেন, টিম গঠনের ফলে হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি বাড়বে বলে আমার ধারণ। যারা অনিয়ম করতে অভ্যন্ত তারা এই টিমের ভয়ে হলেও কর্মস্থলে হাজির হবে বলে আশা করছি।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বায়োমেট্রিক মেশিনও স্থাপন করা হয়েছে। তারপরও তারা কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন না। সে কারণেই উপস্থিত দেখভাল করতে মন্ত্রণালয়ের ৭৫ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিদর্শনকালে যদি কারও অনুপস্থিতি পাওয়া যায়, তা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেবেন। মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে গত বছরের ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বায়োমেট্রিক মেশিনে ইলেকট্রনিক হাজিরার মাধ্যমে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি মনিটরিং করা হয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের হাজিরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ওই মাসে প্রায় ৫৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মস্থলে হাজির হননি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬১০টি। আর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ জন। সেখানে কর্মরত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৮ জন। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৭৯২ পদ শূন্য রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার ৫৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিতি না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে