• অারও

কোটিপতি জাহাঙ্গীরের প্রতিদ্বন্দ্বী লাখপতি হাসান

গাজীপুর সিটি নির্বাচন

  আবুল হাসান, গাজীপুর

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার একাধিক মামলার আসামি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের নামে কোনো মামলা নেই। বড় দুটি দলের মনোনীত দুই প্রার্থীই বেশ বিত্তশালী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের তৈরি পোশাক কারখানা, ব্যবসা ও কৃষি খাতসহ সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৬ টাকা। বিএনপি প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারও ধনাঢ্য। তার সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ টাকা। পেশায় দুজনই ব্যবসায়ী, আর দুজনেরই রয়েছে দায়দেনা। জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং হাসান সরকারের বার্ষিক আয় প্রায় ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া আরও ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, মনোনীত ৯ মেয়র প্রার্থীর সবাই শিক্ষিত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমএ (স্নাতকোত্তর) ও বিএনপি প্রার্থী বিএ (স্নাতক) পাস। হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ছাড়া অপর সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজন শিক্ষক, দুজন চাকরিজীবী এবং একজন ব্যবসায়ী রয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম : আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর বাইরে রয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ শতাংশ কৃষি ও অকৃষিজমি। অন্যদিকে দেনা রয়েছে ৮ কোটি টাকা। রয়েছে একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল, দুটি গাড়িসহ আসবাবপত্র। জাহাঙ্গীর আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিদ্যায় এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতীতে তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে দুটি মামলা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটিতে খালাস ও অপরটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ই ধারায় অর্জিত দেখিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেড় লাখ টাকা। বাড়ি ও দোকানভাড়া পান ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। হলফনামায় জাহাঙ্গীর আলম পেশায় ব্যবসায়ী উল্লেখ করলেও অনারেবল টেক্সটাইলস কম্পোজিট এবং জেড আলম অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অনারেবল টেক্সটাইলস কম্পোজিটে তার শেয়ার রয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও জেড আলম অ্যাপারেলসে শেয়ার মাত্র ২০ হাজার টাকা। তার সম্পদের মধ্যে নগদ টাকার পরিমাণ ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ব্যাংকে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭১ টাকা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। আর সঞ্চয়পত্র আছে ১০ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৫৩৬ শতাংশ জমি। এর মধ্যে কৃষিজমি ১ হাজার ৪৯৫.১৫ শতাংশ, অকৃষিজমি ৩৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক জমি ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জমি বিক্রির জন্য বায়না বাবদ ৮ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে তার।

হাসান উদ্দিন সরকার : দুটি মামলার অভিযুক্ত হাসান উদ্দিন সরকার সোমবার আদালতে আসেন হাজিরা দিতে। এ সময় তিনি বলেন, আমি একজন প্রার্থী হিসেবে মামলার হাজিরা দিতে আদালতে এসেছি। হলফনামা অনুসারে, বিএনপির এই প্রার্থী ও তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া দুজনই সম্পদশালী। হাসান উদ্দিন সরকারের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। নিজের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ টাকা ও স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ টাকা। এর বাইরে দুজনের ৫৩ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। এ ছাড়া হাসান সরকারের নিজের নামে একটি পিস্তল ও একটি শটগান এবং স্ত্রীর নামে একনলা বন্দুক রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে হাসান সরকারের নামে ৫৯৮ শতাংশ ও তার স্ত্রীর নামে ৩০৫ শতাংশ জমি রয়েছে। আর স্ত্রীর নামে রয়েছে একটি চারতলা বাড়ি। হাসান সরকারের ঋণ রয়েছে ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। হাসান উদ্দিন সরকার একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি ও টঙ্গী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা চলমান রয়েছে। দুটি মামলার একটি বিচারাধীন ও আরেকটি তদন্তাধীন। এ দুটি মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৫ ও ২০১৮ সালে দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালে তার নামে তিনটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটিতে বেকসুর খালাস ও একটি খারিজ হয়েছে।

হাসান সরকারের বার্ষিক আয়ের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পান ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কৃষি খাত থেকে ৬৩ হাজার, বাড়ি/দোকান/অন্যান্য ভাড়া ৫ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ও ব্যাংক সুদ বাবদ ১১ হাজার ৫২৬ টাকা আয় রয়েছে তার।

হাসান সরকারের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার নগদ টাকা সাড়ে ৩ লাখ ও ব্যাংকে জমা ৬০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকা। রয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি। এ ছাড়া তার ২১ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতক জমিসহ ৫টি দোকান, ৯০ শতাংশ জমি ও স্থাপনা, টঙ্গীতে সেমিপাকা ৩২টি রুমের ঘর এবং একচালা টিনশেড। অন্যদিকে হাসান উদ্দিন সরকারের স্ত্রীর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা রয়েছে। তার (স্ত্রী) নামে ২৯০০ বর্গফুটের চারতলা বাড়ি রয়েছে, যার দাম ৭৭ লাখ ৮৪ হাজার ১৮৮ টাকা। এ ছাড়া ৩২ তোলা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও একনলা বন্দুক রয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে