হঠাৎই নড়ে উঠল ‘মৃত’ নবজাতক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ০১:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক নবজাতককে মৃত ঘোষণার পর আজিমপুর কবরস্থানে গোসলখানায় গোসল করানোর সময় সে নড়ে ওঠে। পরে তাকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্বজনরা। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে নবজাতকটি। গতকাল সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।
আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার হাফিজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গোসলখানার ড্রেসার মোবাইলফোনে আমাকে শিশুটি নড়াচড়ার বিষয়টি জানায়। আমি তাৎক্ষণিক নবজাতকের স্বজনদের নিয়ে সেখানে যাই এবং নবজাতকটিকে জীবিত দেখে হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনুরোধ করি। তারা তাকে নিয়ে আজিমপুর মেটারনিটিতে যান। পরে নবজাতককে শিশু হাসাপাতালে পাঠানো হয়।
ড্রেসার জেসমিন আক্তার আমাদের সময়কে বলেন, নবজাতকটি একটি কার্টন থেকে বের করে গোসল করানোর জন্য দুহাতে ধরলে দেখতে পাই সে হাত-পা নাড়ছে। আমি আরেকটু ভালো করে নাড়াচাড়া দিয়ে দেখি নবজাতক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে।
নবজাতকের বাবা মিনহাজুল উদ্দিন বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমার স্ত্রী শারমিন আক্তার একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে চিকিৎসক সন্তানটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
নবজাতকের মামা শরিফুল বলেন, প্রথম যখন আমার বোনকে ভর্তি করি তখন ডাক্তাররা তাকে দেখে বলেন, গাছ নেবেন না ফল নেবেন। তখন বোনকে বাঁচাতে জোর দিই। এর পর রাতে আমাদের জানানো হয় বাচ্চা নড়াচড়া করছে না। মারা গেছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সালমার মাধ্যমে জানতে পারলাম শারমিন নামে একজন রোগী আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ২৭ সপ্তাহের প্রেগনেন্সি নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। আজ যখন তার ডেলিভারি হয়েছে তখন একটা মৃত সন্তান জন্ম হয়েছে। স্বজনদের কাছে মৃত সন্তান দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু মৃত সন্তান জন্ম হয়েছে তা হলে এখন মিম নামের যে শিশুটি নিয়ে এত আলোচনা সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রয়োজনে তার ডিএনএ টেস্ট করা হতে পারে। এ ঘটনায় হাসপাতালের উপপরিচালক বিদ্যুৎ কান্তি লালকে প্রধান করে প্রাথমিকভাবে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে নবজাতককে। আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হলেও তার হার্টবিট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম।
শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেছেন, নবজাতকটিকে বর্তমানে কার্ডিয়াক আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নবজাতকের হার্টবিট খুবই কম, শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে না। সাত মাসে ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তার ওজনও কম। শরীরে রক্তশূন্যতা আছে। নাভি দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।
জানা গেছে, শারমিন আক্তারের গ্রামের বাড়ি ধামরাই উপজেলার শ্রীরামপুরে। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তার স্বামী মিনহাজুল উদ্দিন। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে