খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন : প্রতীক পেয়েই প্রচারে প্রার্থীরা

জমে উঠল ভোটের মাঠ

  এস এম কামাল, খুলনা ও আবুল হাসান, গাজীপুর

২৫ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১০:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুই সিটির নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। খুলনা আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছেন।
খুলনা প্রেসক্লাবে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ‘নৌকার জয়, বাংলার জয়’ সেøাগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ও জেলা  আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাচন কমিশন থেকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ নেন তিনি। সেখান থেকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে ২২ এপ্রিল তিনি বাগেরহাটে হজরত খাজা খানজাহান আলী (রহ)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মঞ্জু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ নেন। এর পর পরই তিনি দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে দোয়ার আয়োজন করেন। দোয়া শেষে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন ম-ল মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রার্থীরা নির্বাচনে নিজের জয় লাভের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নৌকা হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষের প্রতীক, মানুষের মর্যাদার প্রতীক। আমি সেই নৌকা পেয়েছি। আমি মনে করি, গাজীপুরের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১৫ মে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।
বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আল্লাহর রহমতে ধানের শীষের জয় শতভাগ নিশ্চিত। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এখন থেকে নির্বাচনের প্রচারকাজে নেমে পড়ব।
সিপিবির রুহুল আমিন বলেন, কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সিটিকে একটি বাসযোগ্য, মানবিক, উন্নত, আধুনিক এবং পরিবেশসম্মতভাবে গড়ে তুলব।
ইসলামী ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন জানান, মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। পরিবর্তনের ধারায় সিটিবাসী মোমবাতিকে বিজয়ী করবে বলে আশা করি।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন দেয়ালঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন। মেয়র ছাড়াও ওয়ার্ড অনুসারে ভাগ হয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
এদিকে প্রতীক পেয়ে প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। চান্দনা চৌরাস্তায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মিছিল ও শোভাযাত্রা করেন। এখানে তিনি দলীয় হ্যান্ডবিল বিতরণ করেন।
এ ছাড়া শহরের রাজবাড়ী সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মিছিল বের করে। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
খুলনার ২ থানার ওসি রদবদল
খুলনা সদর এবং দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেএমপি কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে ‘জনস্বার্থে’ এ রদবদল করা হয়েছে। মঙ্গলবার তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি সোনালী সেন।
কেএমপি সূত্র জানায়, খুলনা সদর থানার ওসি এমএম মিজানুর রহমানকে কেএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) এবং দৌলতপুর থানার ওসি মো. হুমায়ূন কবিরকে খুলনা সদর থানায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিবির ইন্সপেক্টর কাজী মোস্তাক আহমেদকে দৌলতপুর থানায় বদলি করা হয়েছে।
গণসংযোগে বিএনপির ৫৭ টিম
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে গণসংযোগ করতে ৫৭টি টিম গঠন করেছে বিএনপি। টিমগুলো ৫৭টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী কাজ ও প্রচার চালাবে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে এসব কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য সচিব ফজলুল হক মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে