খালেকের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ০৮:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টি হলেই খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। নবনির্বাচিত নগরপিতা তালুকদার আবদুল খালেক দায়িত্বগ্রহণের পর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনই প্রধান চ্যালেঞ্জ। নগরীর প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ২২ খাল

উদ্ধার করা তার জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ, হকারদের পুনর্বাসন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলেও দায়িত্বগ্রহণের জন্য প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্তমান মেয়রের মেয়াদ রয়েছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, সিটি করপোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বন্ধ করাই তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। জলাবদ্ধতা দূরীকরণও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নারীনেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, নগরীর ২২ খাল উদ্ধারই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এটা উদ্ধার হলে জলাবদ্ধতা কমে যাবে। এখন তো একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা চলার অনুপযোগী হয়ে যায়।

তিনি বলেন, যদিও এর আগের মেয়াদেও তিনি মেয়র থাকাকালে ২২ খাল উদ্ধারে কথা বলেছিলেন কিন্তু পারেননি। এবারও পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

নগরীর রাস্তা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াসা গত দেড় বছর ধরে কাজের নামে রাস্তা খুঁড়ে রেখেছে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব রাস্তা চলার উপযোগী ও মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটাও দেখার বিষয়। এ ছাড়া হকার পুনর্বাসনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

যানজট নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মাহেন্দ্রসহ অনিবন্ধিত বাহনের কারণে শহরে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। শুনেছি, এটা সরকার সমর্থক নেতারা নিয়ন্ত্রণ করেন। এটা বন্ধ করতে না পারলে পরিচ্ছন্ন খুলনা যানজটে আটকে যাবে।

স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক। এ দুটির প্রতিফলন ঘটানোই বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে তিনি তো সবার মেয়র। তাই দুই গ্রুপের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করাও তার জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, গত বছর তিনি দলীয় সবাই একত্রিত না থাকার কারণে পাস করতে পারেননি। এ বছর সবার সহযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কিছু নেতাকর্মী সিটি করপোরেশন সামনে রেখে কোনো অবৈধ সুবিধা নিতে চাইলে তা রোধ করা তার জন্য কঠিন হবে। অন্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছেÑ নগরীর ২২ খাল উš§ুুক্ত করা। ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীরা এ খাল দখল করে আছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এটা উš§ুুক্ত করা আবশ্যক। নির্বাচনী ইশতেহারে এটা আছে। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়। হকারদের পুনর্বাসনও তার জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আবু সালেহ বলেন, খালেক সাহেব তো আগেও মেয়র ছিলেন, সে সময় জলাবদ্ধতা কমাতে পারেনি। এবার পারেন কিনা দেখা যাক। এ ছাড়া এই এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল চালু করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ ছাড়া সবাই মনে করেনÑ তালুকদার আবদুল খালেকের দেওয়া ৩১টি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নও তার জন্য চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে রয়েছে সিটি গভর্নমেন্ট পদ্ধতি চালু, যা তার এখতিয়ারের বাইরে। এটা সরকারের ইচ্ছা ছাড়া অসম্ভব।

অপেক্ষা করতে হবে ৫ মাস : জয়ী হলেও এখনই নগরপিতার আসনে বসতে পারছেন না খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। কেননা বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। এর পরেই দায়িত্ব বুঝে নেবে ক্ষমতাসীন দলের সদ্য সাবেক এই সাংসদ।

ইসির তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ১৫ জুন খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সভা হয় ২৬ সেপ্টেম্বর। নিয়ম অনুসারে প্রথম সভা থেকেই মেয়াদকাল হিসাব করা হয়। সে হিসাবে বর্তমান মেয়রের পাঁচ বছর মেয়াদকাল শেষ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। তাই দায়িত্ব বুঝে নিতে ততদিন অপেক্ষা করতে হবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে