মহাশ্মশান দখল

ক্ষমা চাইলেন শিবগঞ্জের সেই আ.লীগ নেতা

  নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

২৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাইকোর্টের নির্দেশে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলার বানাইল মহাশ্মশানে ব্যানার মেলে ধরে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ব্যানারে তিনি লিখেছেন, ‘বানাইল মহাশ্মশান

নিয়ে সভাপতি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আর কোনো বিরোধ নেই। আমরা একে অপরের সহযোগিতার ভিত্তিতে সহঅবস্থান করব এবং শান্তিময় পরিবেশের অঙ্গীকারবদ্ধ।’

এর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শতবর্ষী শ্মশানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হককে ভর্ৎসনা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই অপকর্মের জন্য স্থানীয় জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এ বিষয়ে আগামী রবিবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

অজিজুল হক বুধবার বিকাল সোয়া ৫টায় শ্মশানস্থলে আসেন। এদিকে আজিজুল হক জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবেনÑ এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকাল থেকে সাধারণ মানুষ সনাতন ধর্মের নারী-পুরুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা শ্মশানস্থলে এসে ভিড় জমান।

ক্ষমা চাওয়ার অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, শ্মশান দখল নিয়ে শুরু থেকেই মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কারণ জায়গাটি আমি কিনেছিলাম। পরে জানতে পারি এটি শ্মশানের। তখন চুপ ছিলাম। তিনি বলেন, যা হয়েছে ভুল হয়েছে। এই জায়গা আমার নয়। এখন থেকে এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যা করার করবে। আমি তাদের সহযোগিতা করব।

শতবর্ষী বানাইল বারোয়ারি শিবমন্দির এবং শ্মশান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি শ্রীকৃষ্ণ মোহন্ত, সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট ব্যানারে লিখতে বলেছিল ‘শ্মশানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টা করে আমি ভুল করেছি। এ ধরনের কাজ আর কোনো দিন করব না।’ কিন্তু ব্যানারে তা লেখা ছিল না। তা ছাড়া ব্যানারটি শ্মশানে টাঙানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফটোশেসনের পর তিনি ব্যানার নিয়ে চলে যান।

শিবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রামনারায়ণ কানু বলেন, মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধান্ত নেন বিকাল ৪টায় শ্মশানে দাঁড়িয়ে তিনি ক্ষমা চাইবেন। বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা কমিটির লোকজন নিয়ে যথাসময়ে অপেক্ষা করি। পরে তিনি ৫টার দিকে এসে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করে শত শত মানুষের সামনে ভুল স্বীকার করেন। তিনি এখন থেকে শ্মশানের এই জায়গায় কোনো কিছু করলে সহযোগিতা করার আশ^াস দেন।

উল্লেখ্য, শ্মশান দখল করা নিয়ে ২০১৬ সালের ২৬ জুন একাধিক দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জাতীয় একটি দৈনিকের প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট করে। এ রিট আবেদনে ওই বছরের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ অবস্থায় ২০১৬ সালে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় হাইকোর্টে। এ রুলের ওপর শুনানির সময় গত ১৩ মে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে তলব করেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০ মে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে গেলে আদালত বলেন, স্থানীয় জনগণের কাছে ওই অপকর্মের জন্য শ্মশানে ব্যানার লাগিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ব্যানারে লিখতে হবে, ‘শ্মশানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টা করে আমি ভুল করেছি। এ ধরনের কাজ আর কোনো দিন করব না।’ আদেশে আরও বলা হয়, ব্যানার টানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার অনুষ্ঠানে ওই শতবর্ষী শ্মশানের কমিটিকে উপস্থিত রাখতে হবে। ওই ক্ষমা চাওয়ার অনুষ্ঠানের ছবি আগামী রবিবারের মধ্যে হাইকোর্টে উপস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে আগামী রবিবার দখল চেষ্টা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে লিখিতভাবে নিশঃর্ত ক্ষমা চাইলে বিষয়টি আদালত দেখবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে