অর্থের অপচয় কমানোর উদ্যোগ

বাজেট ২০১৮-১৯

  আবু আলী

২৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ০৯:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থের অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর বাজেটের অব্যবস্থাপনার জন্য যেসব অর্থ অপচয় হয়, সেগুলো কমিয়ে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে। প্রাথমিকভাবে সরকারি হিসাবে অর্থ ফেলে রাখা, ঋণ নিয়ে তা কাজে না লাগিয়ে সরকারি অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখার প্রবণতা বন্ধ এবং প্রকল্পের কাজে যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অপচয় কমানো হবে। পরে প্রকল্পের কেনাকাটা, অর্থ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমেও কমানো হবে অপচয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ওইসব বৈঠকে পদ্ধতিগত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে যেসব অর্থের অপচয় হচ্ছে, তা কীভাবে বন্ধ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কিছু কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেগুলো আগামী বাজেটে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সম্মতি জানিয়েছেন। তার বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে একটি অংশ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষক ড. জায়েদ বখত আমাদের সময়কে বলেন, অর্থের অপচয় খুবই দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে অর্থের অপচয় অনেকাংশই কমে যাবে। এ ছাড়া বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যেসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বিত হয়,

সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা হলেই কেবল বড় বাজেটের বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, প্রতিবছর যে বাজেট দেওয়া হয়, তার কমপক্ষে ১০ শতাংশ অপচয় হয় টাকা খরচ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এর ১০ শতাংশ হিসাবে আসছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা অপচয় হচ্ছে। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে অপচয়ের পরিমাণ।

সরকারের বাজেটের আকার, ঘাটতি বাজেট, ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা দেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে। এতে বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে টাকার প্রবাহ ঠিক করে। কিন্তু সেটি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে থাকে না। লক্ষ্যমাত্রা ও নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সরকারকে ঋণের জোগান দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে টাকা তুলে নিলেও সেগুলো সরকার সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। ফলে সরকারের ঋণের টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে অলস পড়ে থাকে। অথচ এর বিপরীতে নির্ধারিত হারে সুদ দিতে হয়। ফলে অপচয় বাড়ে।

প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় করা হলেও আগে থেকে অর্থ ব্যবহারের নীতিমালা না থাকায় ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এ কারণেও ঋণের অর্থ অলস পড়ে থাকে। সরকারি অর্থ ধাপে ধাপে খরচ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনুমোদন নেওয়া, ব্যবহৃত অর্থের হিসাব দেওয়ার প্রক্রিয়ায়ও সময় নষ্ট হয়। এতেও অর্থের অপচয় হয়।

বৈদেশিক প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অনুসরণ করতে হয়। অর্থ ছাড়ের শর্ত বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দেরির কারণে স্থানীয় অংশের অর্থের অপচয় হয়। এভাবে বাজেট বাস্তবায়নে নানাভাবে অর্থের অপচয় হচ্ছে। এসব অপচয় বন্ধ করতে পারলে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেমন গতি আসবে, তেমনি উন্নয়নকাজে আরও বেশি অর্থের জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে