এবার স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-২

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ মে ২০১৮, ১০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব অরবিটাল সøটে পৌঁছে এখনো কাজ শুরুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু-২ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বঙ্গবন্ধু ১-এর ঠিকানা হয়েছে ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমার একটি অরবিটাল সøটে। এর জন্য মস্কো-ভিত্তিক সংস্থা ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের কাছ থেকে ওই সøট ভাড়া নিয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১০০ ডিগ্রি ও ৭৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে দুটি অরবিটাল সøটের বরাদ্দ চেয়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে আবেদন করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি জানান, এর একটিকে বঙ্গবন্ধু ২-এর জন্য ভাবছেন তারা।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আইটিইউতে আবেদন করে রেখেছি। এর মধ্যে ১০০ ডিগ্রিতে ভারতের দাবি আছে। ৭৪ ডিগ্রির অরবিটাল সøটটি এখনো খালি আছে। তবে আমরা দুটোর জন্যই চেষ্টা চালিয়া যাচ্ছি।

যেহেতু গ্রাউন্ড স্টেশন করা হয়ে গেছে, ফলে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইটের জন্য খরচ তুলনামূলক কম হবে বলেও জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ৭৪ ডিগ্রির অরবিটাল সøটটি পেলে বঙ্গবন্ধু-২ হয়তো সেখানেই বসানো হবে।

গত ১১ মে উৎক্ষেপণের পর একাদশ দিনে জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ নির্ধারিত ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অরবিটাল সøটে পৌঁছে। ইন্দোনেশিয়ার ওপর এই সøটটি বাংলাদেশকে ভাড়া নিতে হয়েছিল কাক্সিক্ষত দুটো সøট না পাওয়ার কারণে।

স্যাটেলাইটের জন্য কক্ষপথ বরাদ্দের প্রক্রিয়া নির্ধারণে আইটিইউ হচ্ছে সর্বোচ্চ সংস্থা। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে আইটিইউয়ের বার্ষিক সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ চার বছরের জন্য এ সংস্থার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হয়। এই সদস্যপদ প্রাপ্তি অরবিটাল সøট পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে বলে সরকারের কেউ কেউ সে সময় আশা প্রকাশ করলেও তা হয়নি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) শুরুতে ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের একটি সøটের জন্য আইটিইউয়ের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, জাপানসহ ২০টি দেশ ওই সøটের জন্য আগেই আবেদন করে রাখায় এবং বাংলাদেশের জন্য তারা ছাড় না দেওয়ায় বাংলাদেশকে বিকল্প ভাবতে হয়। এর পর বাংলাদেশ ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের আরেকটি সøটের আবেদন করলে সেখানেও মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের বিরোধিতার মুখে পড়ে।

তখন সময়ক্ষেপণ এড়াতে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের হাতে থাকা ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের সøটটি ইজারা নেয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় সেই ইজারার চুক্তি করে বিটিআরসি।

মন্ত্রী বলেন, ইন্টারস্পুটনিকের কাছে এই অরবিটটি অ্যাভেইলেবল ছিল। এটাই আমরা পেয়েছি। একটি ‘সুইটেবল’ কক্ষপথের জন্য বিটিআরসি থেকে সে সময় প্রয়োজনীয় সব চেষ্টাই করা হয়েছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মেজবাহুজ্জামান বলেন, ১১৯.১ যদি না পেতাম, তা হলে হয়তো আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণই করতে পারতাম না।

তিনি জানান, নিজস্ব অরবিটে পৌঁছার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে এখন সিগন্যাল পাচ্ছে বেতবুনিয়ার ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র। তবে ওই কৃত্রিম উপগ্রহটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর নিয়ন্ত্রণ করা হবে মূলত গাজীপুরে নির্মিত নতুন ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে। সে জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও চলে এসেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্যাটেলাইট পূর্ণ কার্যক্রমে যেতে সর্বোচ্চ তিন মাস লাগতে পারে বলে জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে