আনন্দ অশ্রুতে সিক্ত ব্রাজিল

কোটিনহো-নেইমারের শেষ মুহূর্তের গোলচমক কোস্টারিকার বিদায়

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ জুন ২০১৮, ০২:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ



কেলর নাভাসকে মনে হয়েছে কুংফু-কারাতে স্কুলের শিক্ষক। কখনো হাত দিয়ে, কখনো মাথা দিয়ে আবার কখনো পা দিয়ে মারছেন। ব্রাজিলিয়ানদের সব চেষ্টা আটকে যাচ্ছিল ওই নাভাসে। তবে যোগ করা সময়ে ব্রাজিলকে আর আটকে রাখা যায়নি। বাঁ-দিকে লম্বা পাস ছিল। বক্সে ফিরমিনো হেডে বলটি বাড়িয়ে দেন জেসুসের কাছে। জেসুস কৌশল করে বল সামনে বাড়ান। দৌড়ে এসে জালে জড়িয়ে দেন কোটিনহো। অপর গোলটি নেইমারের। সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে গোল করেছিলেন কোটিনহো। ব্রাজিল পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়ে গেল। আর নাভাসের সব প্রচেষ্টা একেবারে মাটি হয়ে গেল। অতিরিক্ত সময় ছিল ৬ মিনিট। নেইমার ভালো খেলেছেন। গোল না পেলে ফুটবল ঈশ্বর রুষ্ট হতেন। ২-০ গোলের জয়ে ব্রাজিলের শেষ ষোলোর দরজা অনেকটাই খুলে গেল।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আরও ক্ষুরধার হতে থাকে। এমন আক্রমণে দিশেহারা ছিল কোস্টারিকানরা। নেইমারকে মনে হচ্ছিল কোনো স্বর্গীয় আবহে ফুটবল খেলছেন। ৪৮ ও ৭০ মিনিটের তার দুটি চেষ্টা সফল হলে ব্রাজিলের স্কোর কত হতো। আবার ৫৭ মিনিটেও যদি নেইমার সফল হতেন। পরের মিনিটেই কোটিনহো সুযোগ পেয়েছিলেন। ৭৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নেইমার বক্সে পড়ে যান। মাঠের রেফারি পেনাল্টি দিলেও ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) জানিয়ে দেয় ওটা পেনাল্টি নয়। এর পর নেইমার ধৈর্য হারিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ব্রাজিল ৭০ মিনিটের পর আগ্রাসী হওয়ার ফলে ছন্দ ও খেলার রঙ হারাতে থাকে।
ঘুমের সমস্যা শুধু সমর্থক ও গণমাধ্যমকর্মীদেরই নয়, নেইমারদেরও হয়েছে। রাত বলে কিছু নেইÑ এমন মনে হয় সেন্ট পিটার্সবার্গে। মাত্র তিন সাড়ে তিন ঘণ্টা আকাশ নিকষকালো থাকে। এর পর আবার দেখা গেল সকাল এসে গেছে। হোটেলে পর্দা টেনে ঘুমুতে হয় নেইমারকে। কোচ ও স্টাফদের এ সমস্যার কথা বলেছেন তিনি।
 অবশ্য এতে কার হাত রয়েছে। আর কী-ই-বা করার আছে। রস্টভ-অন-ডনে প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে মন খারাপ হলুদ-জার্সিধারীদের। ওই ম্যাচটিতে কোটিনহোর গোলে এগিয়ে
যাওয়ার পরও এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। মনে প্রত্যয় ছিল নেইমারের। মনে মনে নিজেকে বলেছিলেন, আমি ফিরে আসবই। ফিরবই। ফিরতে আমাকে হবেই!
কোস্টারিকা লাতিন আমেরিকার দল। অমন বলার মতো তারকা নেই। ব্রায়ান রুইজ ও গোলরক্ষক কেলর নাভাসকে বিশ্ব চেনে। নাভাস টানা ৩ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক। কোস্টারিকা এই ম্যাচে প্রথম মিনিট থেকে মার্ক করে খেলতে থাকে। ব্রাজিলিয়ানদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। বাঁ-দিক থেকে মার্সেলো আক্রমণের ছক কষতে থাকেন। একবার গোল হয়েও গিয়েছিল। তবে সেটা অফ সাইডে বাতিল হয়ে যায়। কোস্টারিকা যে একেবারে সুযোগ পায়নি তা নয়। তবে তাদের আক্রমণ জমছিল না। কোথাও যেন জড়তা ভর করেছিল। এই সুযোগ ব্রাজিল প্রথমার্ধে নিতে পারেনি। সার্বিয়ার বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ১-০ গোলে হারে কোস্টারিকা। নাভাস দারুণ সব সেভ করেছিলেন সে ম্যাচে।
ব্রাজিলের প্রথম সুযোগ পান নেইমার, ২৭তম মিনিটে। ডি-বক্সে বল আয়ত্তে নেওয়ার আগেই এগিয়ে এসে বাধা দেন গোলরক্ষক কেলর নাভাস। ৪১তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেন মার্সেলো, তবে নাভাসকে ফাঁকি দিতে পারেননি।
৫৬তম মিনিটে নেইমারের খুব কাছ থেকে নেওয়া শটে গ্লাভস লাগিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান নাভাস। একটু পর কোটিনহোর জোরালো শট কোনোমতে আয়ত্তে নেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা এ গোলরক্ষক।
অবশেষে যোগ করা সময়ে আসে গোল দুটি। প্রথম মিনিটে ফিরমিনোর হেড ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়েছিলেন জেসুস। এগিয়ে এসে নিচু শটে নাভাসকে ফাঁকি দেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার কোটিনহো।
প্রথমার্ধে কোস্টারিকার টার্গেটে ছিলেন নেইমার। বল নিয়ে তিনি কারিকুরি করতে পারেননি ঠিকভাবে। কোস্টারিকা দারুণভাবে রুখেছেন। ২৬ মিনিটে অফসাইড না হলে গোলটি জেসুসের খাতায় লেখা থাকত। ব্রাজিলের আক্রমণ ভাগের সব নামি নাম যে কোনো দলের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবে।  নেইমার ফিরেছেন, গোল পেয়েছেন। বদলে প্রেক্ষাপট। ম্যাচের নায়ক তিনি। এবার মহানায়কের পথে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে