ঢাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রতিবাদ অব্যাহত

কোটা সংস্কার আন্দোলন

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ০৯:০৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন কর্মসূচি গতকাল বুধবারও অব্যাহত ছিল। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উদ্দেশে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মশিউরের মুক্তি দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ঢাবিকে রক্ষণশীল করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে একই দিন মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমাজবিজ্ঞান, কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, লোকপ্রশাসন বিভাগ; কলা অনুষদের বাংলা, আরবি সাহিত্য, ইতিহাস, পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগ; আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগ; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ; বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান, মাইক্রোবায়োলজি, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ এবং সমাজকল্যান ইনস্টিটিউটে গতকাল কোনো ক্লাস হয়নি। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছেন।

ঢাবি প্রশাসনের কেউ নিপীড়নমূলক অবস্থান নিলে তাকে অপসারণ করাসহ ঢাবি কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে ৬টি দাবি তুলে ধরে গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে। এ সময় আরও যেসব দাবি তুলে ধরা হয়, সেগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকারে বাধা দেওয়া যাবে না। মিছিল-মিটিং বিক্ষোভ সমাবেশের মতো আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কোনো ছাত্র সংগঠন বা পুলিশ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। কোটা সংস্কারের ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দাবি করা যে সকল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া এবং হামলায় আহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্রের কাঁধে তুলে নিতে হবে।অহিংস মানববন্ধন ও মিছিলগুলোতে বিনা উসকানিতে যারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সিট বণ্টনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগদানে বাধ্য করা যাবে না।

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন

নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকারম ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ ছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদী প্রমুখ শিক্ষার্থীদের এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষণশীল না করার দাবি

নানা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষণশীল করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোট নেতারা এ দাবি জানান।

মশিউরের মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মশিউরের মুক্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে গতকাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা মশিউরসহ কোটা আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের প্রতিবাদ জানান। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নীরব ভূমিকারও নিন্দা জানানো হয়।

অধ্যাপকের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি

এদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে গতকাল পুলিশ আনার হুমকি দিয়েছেন। বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ছবি তোলেন এবং ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন। অধ্যাপক জামাল বলেন, ‘আমি যদি মনে করি আমার পথে আপনি ব্যারিকেড তৈরি করছেন, তা হলে আমি কিন্তু পুলিশ আনব। এখন আপনি চিন্তা করে দেখেন। আমি কিন্তু প্রক্টরিয়াল ডাকব, ডেকে কিন্তু আমি এখানে পুলিশ আনব।’ এ সময় সেখানে উপস্থিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, ‘স্যার ওরা প্রক্টরের কাছে চিঠি লিখতে যাচ্ছে, ওদেরকে ওদের কাজ করতে দিন; আমরা আমাদের কাজ করি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মশিউরকে গত ২ জুলাই ছাত্রলীগের সূর্যসেন হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা মারধর করে পুলিশে দেয়। গতকাল মঙ্গলবার তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে ঘোষণা দিয়েছে, মশিউর ক্লাসে না ফেরা পর্যন্ত তারাও ক্লাসে ফিরবে না।

জবিতে ছাত্রলীগের ২ কর্মী বহিষ্কার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিবেদক জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মী দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্তকৃতরা হলেন- গণিত বিভাগের ১১তম ব্যাচের আবুল হোসেন পরাগ এবং ইতিহাস বিভাগের ১২তম ব্যাচের নূরে আলম সিদ্দিকী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে