সংসদে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সম্ভব নয়

ছাড় পাবে না ভিসির বাসায় হামলাকারীরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা, তাতে হাইকোর্টের রায় রয়ে গেছে। হাইকোর্টের রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব? এ রায় অবমাননা করলে, তখন তো আমি কনটেম্পট অব কোর্টে পড়ে যাব। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। কাজেই হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয়।

জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার ২১তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, ‘বারবার এই আন্দোলন। ঝামেলা মিটাবার জন্য কোটা

পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হলো বাতিল।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের

মধ্যে ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো বরদাশত করা যায় না। ভাঙচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। যারা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণ করেছে, তাদের তো ছাড়া হবে না। তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে; তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলন। এটা কী আন্দোলন নাকি? ঠিক তারা যে কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারে না।

কোটা আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধকণ্ঠে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ‘ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে।’ কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাট করা, আলমারি ভেঙে গহনাগাঁটি, টাকাপয়সা সবকিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছে। এটা কি কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে? কথায় কথায় বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়! ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবার সেই সেশনজট।

আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারা হলের গেট ভেঙে ফেলে দেবে, মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। টেনশনে আমি বাঁচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলেছি, এ মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত জেগে থেকে যার যার হলে পৌঁছে যাওয়ার পর আমি ঘুমাতে গেছি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যয় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার। কোথায় আছে পৃথিবীর? ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারের বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বলেছি, কোটা সংস্কার আমরা করব। আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তা হলে এদের অসুবিধাটা কোথায়? তাছাড়া কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা কয়েক বছর ধরেই চলছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে