ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিচারই শুরু হয়নি

বগুড়ায় তুফানকা-ের ১ বছর

  প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া

১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণ এবং তার মাকেসহ নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার আলোচিত সেই ঘটনার বছর ঘুরলেও মামলার বিচারকাজ শুরুই হয়নি। ১৩ আসামির নয়জনই জামিনে মুক্ত। আসামি সামিউল হক শিমুলকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারই করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রধান আসামি শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা তুফান সরকার এবং তার দুই সহযোগী আতিক ও মুন্না কারাগারে রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। গত ১২ এপ্রিলের মধ্যে তা বিচারিক শিশু আদালতে পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই

ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল। তবে এক আসামি পলাতক থাকায় চার্জগঠন করা যায়নি।

শহরের ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক তুফান সরকার। ওই ঘটনার ১০ দিন পর তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী উল্টো ওই কিশোরী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের চকসূত্রাপুর এলাকায় রুমকির বাড়িতে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে বেধড়ক পেটানো হয়।

ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তুফান সরকার ও তার স্ত্রীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয় তুফান। এমনকি তাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে বড় ভাই বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিন সরকারকেও বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত হওয়ায় সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিকেও সাময়িক বহিষ্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এজাহারভুক্ত অপর আসামিরা হলোÑ তুফানের শাশুড়ি রুমি, সহযোগী আতিক, মুন্না, দীপু, রূপম, জিতু ও শিমুল।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আতিক, মুন্না ও জীবন রবিদাস নামে এক নাপিত (নরসুন্দর) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ভিকটিম কিশোরীও পৃথকভাবে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে ধর্ষিত কিশোরীর ডাক্তারি প্রতিবেদনও সংগ্রহ করে পুলিশ, যাতে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার ওসি (অপারেশন্স) আবুল কালাম আজাদ তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ অক্টোবর পৃথক দুটি ধারায় ওই মামলার আলাদা চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দাখিল করা চার্জশিটে এজাহারভুক্ত ১০ জনকেই অভিযুক্ত করা হয়। তবে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ওই ১০ জনের সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয় আরও তিনজনকে। তারা হলোÑ মার্জিয়া হাসান রুমকির বাবা জামিলুর রহমান রুনু, গৃহপরিচারিকা আঞ্জুয়ারা বেগম ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া নাপিত জীবন রবিদাস। সাক্ষী করা হয় মামলার বাদী, তার কিশোরী কন্যা, পুলিশ ও চিকিৎসকসহ মোট ২৩ জনকে।

বিচারিক শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমানউল্লাহ? জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে সামিউল ইসলাম শিমুল এখনো পলাতক থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটির চার্জগঠন সম্ভব হচ্ছে না। কারণ পলাতক আসামির বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে। এ জন্যই বিলম্ব হচ্ছে কিছুটা। তবে অপহরণ এবং মারধর সংক্রান্ত মামলায় চার্জগঠন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হবে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে