sara

রাজশাহীতে কৌশল পাল্টাচ্ছে বিএনপি, প্রস্তুত আ.লীগও

  নজরুল ইসলাম (ঢাকা) ও আমজাদ হোসেন শিমুল (রাজশাহী)

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ০৯:০৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগে দলের পোলিং এজেন্ট এবং নেতাকর্মীদের যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজশাহী বিএনপিও তেমনই শঙ্কা করছে। এ শঙ্কা থেকেই ভিন্ন কৌশলে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১৩৮টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে সাহসী নেতাকর্মীদের দিয়ে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। আজ তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সাহসী নেতাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রে পাহারাও বসানো হবে।

আওয়ামী লীগও ভোটের দিনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সুষ্ঠু ভোট হবে ধরে তারা তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি বুথের বিপরীতে দুজন করে নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।

মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন আমাদের সময়কে বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াসকুরুনি ডায়মন্ড, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মাইনুল হক হারু, রাজপাড়া ছাত্রদল সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম আপেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন শিবলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম নবি গোলাপ, ২৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক মাহমুদ বাবুকে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা বলেন, আমরা আগে থেকেই ধরে নিয়েছি, এ সরকারের অধীনে সব নির্বাচনই খুলনা ও গাজীপুরের মতো হবে।

মহানগর বিএনপি সূত্র জানায়, ১৩৮টি কেন্দ্রের ১০২৬টি বুথের জন্য ১৪৬০ জন ধানের শীষের এজেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোটের দিন তাদের দায়িত্ব কী হবে সে বিষয়ে আজ রবিবার থেকে তাদের জন্য তিন দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে একই কৌশল রাজশাহীতেও অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু রাজশাহীতে ভোট ডাকাতি করতে দেওয়া হবে না। আমাদের নেতাকর্র্মীরা মাঠে থাকবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করা হবে।’

মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, রাজশাহীতে কোনোভাবেই জোর করে ভোট প্রদান করতে দেওয়া হবে না। জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করা হবে। নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ না করলে রাজশাহীকে অচল করে দেওয়া হবে। আর এর দায়ভার নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ কমিশনারকে নিতে হবে।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ২৬টি নির্বাচনী বুথের জন্য নৌকার এজেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বিগুণ। অর্থাৎ ২ হাজার ৫২ জন দলীয় এজেন্ট নৌকার পক্ষে কার্যকর ভ‚মিকা রাখার জন্য ইতোমধ্যেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত প্রায় চার দিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে তাদের এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এসব এজেন্ট কীভাবে ভোটারদের সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটদানে সহযোগিতা করতে পারেন সেই কাজগুলো করবেন।

দল সূত্র জানায়, নৌকার প্রতীকের নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির অধীনে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকটি উপকমিটি। এ ছাড়া ওয়ার্ড, মহল্লা ও সেন্টার কমিটিও রয়েছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত¡াবধানে এবং উপকমিটির সমন্বয়ে ওয়ার্ড, মহল্লা ও সেন্টার কমিটির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে কাজ করবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আহসানুল হক পিণ্টু আমাদের সময়কে বলেন, ১ হাজার ২৬টি নির্বাচনী বুথে আমাদের একজন করে পোলিং এজেন্ট থাকবে। তবে কাজের সুবিধার্থে দ্বিগুণ পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য তাদের সহযোগিতার জন্য কর্মী বাহিনী প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি ও ১২টি মনিটরিং টিম রয়েছে। যারা সার্বক্ষণিক নির্বাচন কার্যক্রমগুলো দেখভাল করবে। আর ওয়ার্ড ও সেন্টার কমিটি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ডাবলু সরকার বলেন, দলের নেতাকর্মীরা পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেবে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কেউ নষ্ট করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের কর্মী বাহিনী তা প্রতিহত করবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে