সোহরাওয়ার্দীতে বিশাল গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

আমৃত্যু জনগণের সেবা করে যেতে চাই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ১০:৩৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেওয়া গণসংবর্ধনা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। বলেছেন, আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। যতক্ষণ জীবন আছে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাব। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই আমার বিবেচ্য। এর বাইরে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারবিরোধীদের একহাত নিয়ে বলেন, অনেকেই নৌকা ঠেকাতে চান।

প্রশ্ন রেখে বলেন, নৌকা ঠেকিয়ে কি রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনতে চান? তিনি এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন। গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন, অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সর্বশেষ ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট ডিগ্রি অর্জনসহ সরকারের বিভিন্ন অর্জনে অবদান রাখায় শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দেয় তার দল আওয়ামী লীগ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি অভিনন্দনপত্র পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যের শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, এই মণিহার আমায় নাহি সাজে। আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিশ্বমন্দার মধ্যেও আজকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭.৮ ভাগ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৫.৬ ভাগে নামিয়ে রাখতে পেরেছি। প্রবৃদ্ধি যদি উচ্চহারে অর্জিত হয় আর মূল্যস্ফীতি যদি নিম্নহারে থাকে সেই অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষ, গ্রামের মানুষ ভোগ করতে পারে। যদিও আমাদের দুর্ভাগ্য, এমনও শুনতে হয় যে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি নাকি ভালো নয়। দেশ উন্নয়নশীল হওয়া ভালো নয়। কেউ-কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। কারা দেয়? কার আতে ঘা লাগে? আতে ঘা লেগেছে তাদের যারা আমার বাংলাদেশের দরিদ্র হাড্ডিসার মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ এনে সেই অর্থ লুটে খেয়ে সম্পদশালী হয়। দেশে-বিদেশে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে তাদেরই আতে ঘা লেগেছে।

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি ধরে রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সোনার বাংলাদেশ। আমাদের লক্ষ্যটাই হচ্ছে দেশকে উন্নত করা, সমৃদ্ধিশালী করা। আজকে যারা বলছেন, দেশ উন্নয়নশীল হওয়া ভালো নয়, তাদের আমার সন্দেহ হয় তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন কিনা! নাকি তারা ওই স্বাধীনতাবিরোধীদের পদলেহনকারী সেটাই আমার প্রশ্ন।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা শ্রেণি আছে, তাদের কোনো উন্নয়নই নাকি চোখে পড়ে না। আবার কেউ কেউ বলেন নৌকা ঠেকাতে হবে। আমার প্রশ্ন নৌকা কেন ঠেকাতে হবে? নৌকার অপরাধটা কী? নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশের জনগণ ভাষার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, পরমাণু ক্লাবে, স্যাটেলাইট ক্লাবে প্রবেশ করেছে। নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে।

সরকারবিরোধীদের একহাত নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তারা নাকি গণতন্ত্র আনবে। গণতন্ত্র কোথায়? আজকে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আমাদেরই দাবি ছিল, ছবিসহ ভোটার তালিকা আমরাই দিয়েছি। যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ৬ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটা নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের মনমতো প্রার্থী জয়যুক্ত করেছে। সেখানে গণতন্ত্র যদি না থাকে তা হলে মানুষ এভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করল কীভাবে?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০১৫ সালে কেউ কেউ চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করবে। জনগণ আমাদের সঙ্গে ছিল। জনগণই তাদের বাধা দিয়েছে। উৎখাত করতে পারেনি, নিজেরা আবার ঘরে ফিরে গেছে। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের অস্তিত্ব টিকে থাকে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ দেশের মানুষ দেখেছে কী হয়েছে, আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত; এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনিই খেলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেমন মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সারাবিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে আজকে বাংলাদেশ আবার বিশ্বের দরবারে তার মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। তিনি এ সময় ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সমৃদ্ধ বাংলাদেশে উদযাপনের ইচ্ছার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় ছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য। এর বাইরে আমার আর কোনো কাজ নেই। আমার একটাই চিন্তা এই দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন। প্রত্যেকটা মানুষ উন্নত জীবন পাবে, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমার রাজনীতি। যা কিছু অর্জন আমি পেয়েছি আমি মনে করি এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্য।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালে আমরা দিনবদলের সনদ দিয়েছিলাম। এই ১০ বছরে আমরা ঠিকই দিনবদল করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতা না পেলে আজকের বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।

শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্যুভয় আমি করি না। মৃত্যুর আগে মরতে রাজি নই। যতক্ষণ জীবন আছে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাব। কিছু প্রয়োজন নেই আমার। জাতির পিতার স্বপ্নপূরণই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে