sara

দেশবাসীর হৃদয়ে ডা. মনীষা

  আল মামুন, বরিশাল

২৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৮, ০১:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে এবারই প্রথম কোনো নারী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে যাচ্ছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি মূলত পেশায় একজন চিকিৎসক। চিকিৎসক হলেও রয়েছে তার রাজনৈতিক পরিচয়ও। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব তিনি।

তার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বরিশালের সর্বস্তরের মানুষের নজর কেড়েছে। অবাক করার বিষয়, মাটির ব্যাংকে সাধারণ মানুষের জমানো টাকায় চলছে তার নির্বাচনী প্রচার।

তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নগরী চষে বেড়ালেও এ পর্যন্ত আসতে পদে পদে করতে হয়েছে লড়াই-সংগ্রাম। মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে অনড় থাকায় হামলা, মামলা ও সম্প্রতি কারাবরণও করতে হয়েছে শেবাচিম কলেজ থেকে পাস করা ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে।

মেডিক্যালের পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ পেলেও তাতে যোগদান না করে লড়াই করে যাচ্ছেন গরিব-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে। নগরীর প্রতিটি বস্তি এলাকার মানুষের কাছে তিনি ডাক্তার দিদি নামে খেতাবও পেয়েছেন ইতোমধ্যে। তাই এ সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে

কর্মী হিসেবে পেয়েছেন গরিব-অসহায়দের।

তার সঙ্গে থাকা এসব দিনমজুর জানান, বিপদে-আপদে তারা তাকে কাছে পেয়েছেন, সে দেনা শোধ করতেই বিনাস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন মই মার্কার মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে। নির্বাচনের গণসংযোগেও চলছে ডা. মনীষার চিকিৎসাসেবা।

তিনি বাড়িতে বাড়িতে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি কেউ অসুস্থ থাকলেও তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন। ডা. মনীষার নির্বাচনী ব্যয় চলছে জনগণের মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করা টাকা দিয়ে। মেহেনতি মানুষ তাদের মাটির ব্যাংকের সঞ্চয়ী অর্থ তুলে দিচ্ছেন ডা. মনীষার হাতে।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী; বিতর্ক, খেলাধুলা, বিভিন্ন অলেম্পিয়াডে জেলা-বিভাগীয় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু নগরীর মল্লিকা কিন্ডারগার্টেন থেকে এবং পরবর্তীতে ভর্তি হন বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (সদর গার্লস)।

অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং এসএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন-এ প্লাস) পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন অমৃত লাল দে কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে এ প্লাস পেয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। প্রগতিশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া মনীষা চক্রবর্তীর পিতামহ বিশিষ্ট আইনজীবী সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রাজাকার বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। তার বাবা বিশিষ্ট আইনজীবী সর্বজন পরিচিত তপন কুমার চক্রবর্তী মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সবকিছু ছাপিয়ে যে পরিচয় ডা. মনীষাকে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে, তা হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেম।

মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময়ই শিক্ষা-স্বাস্থ্যের অধিকার রক্ষা, শোষণ-লুটপাট থেকে দেশ এবং মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে যুক্ত হন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের রাজনীতির সঙ্গে। বরিশাল নগরীর হোল্ডিং প্রতিবাদে আন্দোলন, ভোলার গ্যাস বরিশালে এনে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা নির্মাণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আন্দোলন, দোকান কর্মচারী-হোটেল শ্রমিক-নির্মাণ শ্রমিক-নৌযান শ্রমিক-রিকশা শ্রমিকদের ধারাবাহিক আন্দোলন, খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণের আন্দোলন, রসুলপুর চরে বস্তি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সফল আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী আমাদের সময়কে বলেন, সারাদেশে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে তাকে সাহস জোগাচ্ছেন। তিনি বলেন, মানুষের চিকিৎসাকে আমি ব্যবসা হিসেবে দেখি না। চিকিৎসা সেবামূলক হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। শ্রমজীবী ও খেটেখাওয়া মানুষ আমার পাশে আছে। জনগণের মাটির ব্যাংকে সঞ্চয় করা টাকা দিয়ে আমার নির্বাচনের ব্যয় চালাচ্ছি। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে নগর কাউন্সিল তৈরি করে উন্নয়ন করব। শিক্ষায়-স্বাস্থ্যে-সম্পদে-কর্মে বরিশালকে আমরা গড়ে তুলতে চাই এক অনুকরণীয় নগরী।

মনীষা চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচন মানেই তো প্রার্থীদের টাকার খেলা। আমার ক্ষেত্রে এটা ব্যতিক্রম। উল্টো শ্রমিকরা নির্বাচনের খরচ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম, তাই লোকজন অভ্যস্ত নন। প্রচারে গিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মনে করছেন তাকে।

এ ছাড়াও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, জনগণের মতামত নিয়ে শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইলিশসহ কৃষি উৎপাদনের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এগ্রোবেজ শিল্প প্রতিষ্ঠান, ফুড প্রসেসিং জোন, কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে কায়ার সেন্টার, আবাসিক ব্যবস্থা, নারীদের জন্য পৃথক শৌচাগার, চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এলাকায় এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করব।

এদিকে বাসদ নেতাদের ধারণা, সিটি নির্বাচনে ভালো ভোট পাবেন মনীষা। মনীষার দাদা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, বাবাও মুক্তিযোদ্ধা। পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণেও তাকে নিয়ে আগ্রহ আছে মানুষের। বরিশালে এই প্রথমবারের মতো মেয়র পদে নারীর প্রতিদ্ব›িদ্বতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বড় দুদল।

বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, দেশের প্রধান দুদলের শীর্ষ নেতা নারী। সব ক্ষেত্রে নারীর এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানাই।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী বলেন, মেয়র পদে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ইতিবাচক। তার জন্য শুভকামনা রয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে