ড. কামাল জুডিশিয়াল ক্যুতে জড়িত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৫৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে ড. কামাল হোসেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) সঙ্গে জুডিশিয়াল ক্যুতে জড়িত ছিলেন এমনটাই মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বলেছেন, ‘আমাদের সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের সবার নাম কিন্তু আমরা জানি।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আনিসুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা তো বাংলাদেশের উন্নয়ন করেই ফেলছেন। এখন কী করার? প্রথম ষড়যন্ত্র হলো, একটি জুডিশিয়াল ক্যু (বিচার বিভাগীয় অভ্যুত্থান) করে শেখ হাসিনাকে কী করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরানো যায়। আপনারা দেখেছেন, শ্রীলংকায় রাজাপাকশে যখন তার প্রধান বিচারপতিকে নামিয়ে দিয়েছিলেন, তখন তাকেও নেমে যেতে হয়েছে। পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফকেও নামিয়ে দিয়েছেন তার প্রধান বিচারপতি। আমাদের সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, তাদের সবার নাম কিন্তু আমরা জানি।’

এ সময় উপস্থিত অতিথিরা উচ্চস্বরে ষড়যন্ত্রকারীর নাম জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তাদের তো চিনবেনই। ড. কামাল হোসেনকে আপনারা চেনেন না? তা হলে আর কী। তার পর এ ষড়যন্ত্র যখন বিফলে গেছে, আমাকে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিটিং জাজেরা বলেছেন যে, তারা (জাজেরা) একটি অনুষ্ঠানের জন্য ড. কামাল হোসেনকে ডাকতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে সিনহার ব্যাপারে বকাঝকা করেছেন কেন সিনহার ব্যাপারে তারা (জাজরা) প্রতিবাদ করেননি, কেন সিনহাকে সরিয়েছে?

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা যেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন, তিনি বলেছেন ঠিক আছে। কোটার ব্যাপারে যদি এ রকম কিছু হয়ে থাকে, তা হলে আমি নিশ্চয় দেখব। দরকার হলে কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেব। তার পরও তো আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন হয় না। এ আন্দোলন যাতে চলমান থাকে, এ আন্দোলনের ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যায়, সে জন্য এই কামাল হোসেন (ড. কামাল হোসেন), এই ইউনূস (ড. মুহাম্মদ ইউনূস), খালেদা জিয়ার যারা সহযোগী, তারা কিন্তু এটার মধ্যে নাক গলানো শুরু করেন।’

তার পর সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। তাদের যৌক্তিক দাবি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন ‘ঠিক আছে, সব ঠিক করে দেব।’ তারাও ফিরে যেতে চেয়েছে এবং তারা ফিরে গেছে। এর মধ্যেও একটা ষড়যন্ত্র, সরকারকে ফেলে দিতে হবে। এগুলো কিসের আলামত? আসলে এগুলো হচ্ছে, ওনারা যাতে কোনো একটা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেন, বলছিলেন আনিসুল হক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মওদুদ সাহেব বলেন আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের দরকার নাই, আমাদের সেইভ বাংলাদেশ দরকার। ওনাদের সেইভ বাংলাদেশের নমুনা হলো হত্যার বিচার হবে না, আর ক্যান্টনমেন্টে প্রত্যেক শুক্রবার হত্যাযজ্ঞ চলবে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ হলে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে উন্নত হয়ে যাবে। তখন তো ওনাদের ঘুম হবে না। এটা হচ্ছে উনাদের নিয়মনীতি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে