জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য যাচাই করছে ডিবি

শহিদুলের পরিকল্পনা ছিল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ‘সরকারবিরোধী কর্মকা-ের’ চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিক নির্যাতনের ইস্যুতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের একটি প্ল্যাটফর্মে এনে সরকারবিরোধী তথ্য প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন শহিদুল। এর মাধ্যমে সরকারকে বিপাকে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ই-মেইলে আলাপ-আলোচনাও চালিয়ে যান তিনি।

পুলিশি রিমান্ডে শহিদুল আলম তার সরকারবিরোধী কার্যক্রমের নানা তথ্য দিচ্ছেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত রবিবার রাতে দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে বাসা থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

শহিদুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে আসা মিয়ানমারের দুই সাংবাদিককে গত বছরের ৭ সেপ্টম্বর কক্সবাজারের টেকনাফে আটক করে পুলিশ। তারা জার্মানিভিত্তিক জিইও ম্যাগাজিনের হয়ে কাজ করছিলেন। তাদের মুক্ত করতে বিশেষ তৎপরতা চালান শহিদুল আলম। কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে সাংবাদিকতা করায় এ নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে ছিল। তার পরও তাদের মুক্তির বিষয়ে নিজের উদ্যোগ নিয়ে জিইও ম্যাগাজিনের ডেপুটি ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও হেড অব ফটোগ্রাফি লার্স লিন্ডম্যানসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ই-মেইল বার্তা আদান-প্রদান করেন শহিদুল আলম।

এসময় শহিদুলকে তারা বাংলাদেশে ‘একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য’ এবং ‘বিশ^স্ত’ মনে করেন বলে উল্লেখ করেন এক মেইল বার্তায়। শহিদুল আলম ওই দুই সাংবাদিককে ছাড়িয়ে নিতে অনৈতিকভাবে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালান। এছাড়া সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে তার এ নিয়ে ইতিবাচক কথা হয় বলে শহিদুল উল্লেখ করেন। তার এসব যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

২০১৭ সালেও শহিদুল আলম সরকারবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে ওই সূত্র। তখন বিদেশি একটি ‘স্বার্থান্বেষী মহলের’ সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। এই যোগযোগের জন্য ই-মেইল ছাড়াও অ্যাপসভিত্তিক কিছু যোগাযোগ চ্যানেল ব্যবহার করেন তিনি। আর চলমান ছাত্র আন্দোলনে সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিম-লে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বিদেশি কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডিসি (উত্তর) মশিউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘শহিদুল আলম তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।’

শহিদুল আলমকে আটকের শুরু থেকেই পুলিশ বলে আসছে, তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালিয়েছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকররূপে আন্তর্জাতিক পরিম-লে উপস্থাপন করেছেন।

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। এ ছাড়া জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে দুই দিনে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন। এর পর ৫ আগস্ট রাতে তাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। পরদিন রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে