রাজনৈতিক চিত্র দ্রুত বদল হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:৩৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কোনো সরকার নেইÑ দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, অতিদ্রুত রাজনৈতিক চিত্রের পরিবর্তন ঘটবে। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন 

এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা কেন’ শিরোনামে এই আলোচনার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রকৃতির আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এর একটি দৃষ্টান্ত কোটা আন্দোলন, আরেকটি হলো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। এগুলো কি আমরা কখনো কল্পনা করেছিলাম? এই ছোট ছোট শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসবে, এটা কি আমরা কখনো ভেবেছিলাম? এটাকেই বলে প্রকৃতির আইন। তিনি বলেন, সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‌্যাব আছে, কিন্তু কোনো সরকার নেই। যে  দেশের রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর আক্রমণ হয়Ñ কারা আক্রমণ করেছে আমরা সবাই তা জানি এবং একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি চলে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয়নি; সোনা রুপা-তামা হয়ে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয়নি; এক লাখ টনের ওপরে কয়লা উধাও হয়ে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। এখানে কি সরকার আছে? আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলতে চাই, অতিদ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্রের পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। 
সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শওকত মাহমুদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ। 
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের একজন তল্পিবাহক ব্যক্তি। বিবেকের তাড়নায় একটা সত্য কথা বলে ফেলেছেন। সেটা হলোÑ আগামী সাধারণ নির্বাচনে যে অনিয়ম হবে না, সেটার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভবপর নয়। খবরের কাগজে দেখলাম, চারজন নির্বাচন কমিশনার সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এর পর একদিনও সিইসির আর নিজের পদে থাকার অধিকার থাকতে পারে না। 
মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইন অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে বলে মনে করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইটস টোটালি এ পলিটিক্যাল ব্লাপ। শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যার জন্য মৃত্যুদ- চেয়েছে। আইন যা ছিল, তা-ই রেখেছে এবং এই আইনের মধ্যে একটি পরিবর্তন হয়েছেÑ তিন বছরের জায়গায় পাঁচ বছর কারাদ- হবে। আর যদি হত্যা প্রমাণিত হয় তাহলে ফাঁসি হবে, যেটা অসম্ভব। কে, কখন, কীভাবে প্রমাণ করবে? অর্থাৎ এটা ফাঁকিবাজি, প্রতারণা। একই প্রতারণা সরকার করেছিল কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও।
দৃক গ্যালারির কর্ণধার প্রবীণ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সরকার একেবারে বেপরোয়া হয়ে গেছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের আর সম্পর্ক নেই, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে  গেছেÑ এই উপলব্ধি তাদের মধ্যে এসছে বলে তারা এত নিষ্ঠুর ও হিংস্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে