বিএনপির ভাবনায় অক্টোবর

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দিন থেকেই আন্দোলন

  হাসান শিপলু ও নজরুল ইসলাম

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দিন থেকেই আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। সে অনুযায়ী আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে বলে দলের একাধিক নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ কিংবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের গুরুত্ব কমে যাবে। তখন সব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রশাসনে কিছুটা ঢিলেমি আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবাইকে ‘দলীয়ভাবে’ ব্যবহার করা সহজ হবে না। ওই সময়টায় সাধারণ আন্দোলন শুরু হয়। বিগত সময়েও তা-ই হয়েছে।

জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের। আন্দোলনকে কোনোভাবেই ১৫-২০ দিনের বেশি দীর্ঘায়িত করতে চান না তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, আন্দোলনের কোনো সময় থাকে না।

সময় ঠিক করে দেয়, কখন আন্দোলন করতে হবে। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কি দিনক্ষণ ঠিক করে হয়েছে? হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমাদের গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তো চলমান। যথাসময়ে জনগণ এ আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেবে।

সরকারের শেষ সময়ের চূড়ান্ত আন্দোলনে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া যায় সে বিষয়ে তৃণমূলের মতামত নেওয়া হয়েছে। ৭৮ সাংগঠনিক জেলা নেতাদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী বৈঠক করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এর আগে নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকম-লীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ঈদুল আজহার পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও হতে পারে।

জানা গেছে, আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা থেকে তৃণমূলের মতামতগুলো পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্দোলন কেমন হওয়া উচিত তার একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হবে।

দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী অর্থাৎ যারা আন্দোলন সফলে মূল ভূমিকা রাখবেন, তাদের সেপ্টেম্বর শেষ কিংবা অক্টোবরের প্রথম অর্ধে রাজপথে নামতে হবে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি এই তিন দফাকে সামনে রেখে আন্দোলনের ছক সাজানো হচ্ছে। এরই বাইরে আরও দাবি থাকবে, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনের আগে পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন।

দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে সরকার বিএনপিকে মাঠে নামাতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকারের ফাঁদে পা দেয়নি। কারণ দল আন্দোলনের জন্য তখন প্রস্তুত ছিল না। বিষয়টি নিয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন চলছে। সারাদেশে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন প্রায় শেষ। এ অবস্থায় আন্দোলনের আগে আর কোনো কমিটিতে হাত না দেওয়ার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে জেলা বিএনপি কমিটি আর হচ্ছে না। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের গুঞ্জন থাকলেও তাও হবে না।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এরশাদের পরিবর্তন যখন হয় তার তিন দিন আগেও বোঝা যায়নি তিনি ক্ষমতাচ্যুত হবেন। তিনি (এরশাদ) কোনো একটা ব্রিজ উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন, সে দিন লক্ষাধিক মানুষ হয়েছিল। সেটা দেখে বোঝা যায়নি তিন দিন পর তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে।

গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর আক্রমণ হয়, কারা আক্রমণ করেছে, আমরা সবাই তা জানি এবং একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮শ কোটি চলে গেল একজনও গ্রেপ্তার হয়নি। এখানে কি সরকার আছে? এসব কিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। সরকার থাকলে তো এসব হওয়ার কথা নয়। আমি আগেও বলেছি, আজকেও বলতে চাই, অতিদ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্রের পরিবর্তন ঘটতে থাকবে। পরিবর্তনের শেষ সময় এখন এসে গেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, সামনে যে আন্দোলনের পরিকল্পনা তারা করছেন, এর মেয়াদকাল হবে সর্বোচ্চ ১৫ দিন। এ সময়ের মধ্যে আন্দোলনকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান তারা। ঢাকার রাজপথসহ সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোই এবারের পরিকল্পনা।

বিএনপির নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের আন্দোলনের পর সরকারের ‘চরম নির্যাতনে’ নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর নেতাকর্মীরা সে আতঙ্কে আর নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে নানা কর্মসূচিতেও উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মী দেখা গেছে।

বিএনপির নেতারা বলেন, সরকার পুরো দাবি না মানলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে পারলে দাবি পূরণ সম্ভব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে