sara

অভিনেত্রী নওশাবা ফের রিমান্ডে

  আদালত প্রতিবেদক

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর অভিযোগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের ফের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী

কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজন অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আবার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে নওশাবাকে আদালতে হাজির করেন। রিমান্ড শুনানিকালে আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়।

রিমান্ড শুনানিকালে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে নওশাবাকে। একপর্যায়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আদালতে তার বাবা-মা এবং নাট্যাভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি তার নিজের মোবাইল থেকে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে গত ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের ৪ নং রোডের ২নং বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসঙ্গে হোন। ওদেরকে প্রটেকশন দিন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দিন। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আমি এ দেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে রিকোয়েস্ট করছি। একটু আগে ওদেরকে এট্যাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। আমরা ৭১-এ পেরেছি, ৫২-তে পেরেছি এবারও পারব।

তার এই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি-বিদেশি সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তার এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার উৎস জানার জন্য ফোন করলে তিনি তার স্বপক্ষে সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য এবং জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য এরূপ মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য ও শনাক্ত মতে লাইভে ব্যবহারিক মোবাইল সাক্ষীদের মোকাবিলায় জব্দ করা হয়েছে। এ আসামি যাদের প্ররোচনা ও মদদে ফেসবুক লাইভে গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করেন তাদের চিহ্নিত করতে ও গ্রেপ্তার করতে আবার ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

রিমান্ড শুনানিকালে নওশাবার পক্ষে তার আইনজীবী কাউসার আহম্মেদ, শ্যামল কান্তি সরকারসহ প্রমুখ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ আগস্ট নওশাবার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। এর পর র‌্যাব বাদী হয়ে মামলা করে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে