পেছনের গল্প কী

ইবির ২ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

  নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া ও ইবি প্রতিনিধি

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেমিকা মুমতাহিনা হেনার আত্মহত্যার খবর পাওয়ার তিন ঘণ্টা পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকনুজ্জামান। দুজনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ছিলেন ফলের অপেক্ষায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ও রাতে পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থীর এভাবে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন তাদের সহপাঠী ও শিক্ষকরা। এমন আত্মঘাতী হওয়ার পেছনে মূলত কী গল্প লুকিয়ে আছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও সহপাঠীরা প্রাথমিকভাবে দুষছেন দুই পরিবারকে। তাদের ভাষ্য, দুই পরিবার হেনা-রোকুনুজ্জামানের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিলে হয়তো এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতেন না তারা।

রোকনুজ্জামানের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা এলাকায়। আর হেনার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।

পুলিশ, পরিবার ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুমতাহিনা হেনা ও রোকনুজ্জামান একে অপরকে ভালোবাসতেন। দুজনের পরিবারই এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এ নিয়ে দুই পরিবারে ঝামেলা চলছিল। এর মাঝে মুমতাহিনার পরিবার তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তিনি তার সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারকে জানান। কিন্তু পরিবার এই সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের ঝিনুক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মুমতাহিনা।

এ খবর শোনার পর কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলার এক মেসে থাকা রোকনুজ্জামান শহরের মতি মিয়া রেলগেট এলাকায় যান। সেখানে রাত সোয়া ৯টায় পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

মুমতাহিনার বাবা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি গতকাল এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে জানান, সন্ধ্যা ৬টায় তার মেয়ে নিজ শয়নকক্ষে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ এমদাদুল হক জানান, মুমতাহিনার আত্মহত্যার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়া পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, পোড়াদাহ থেকে ছেড়ে যাওয়া গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করা রোকনুজ্জামান লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর মুমতাহিনার মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান জানান, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনতা হেনা ও রোকনুজ্জামান। দুজনই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে রোকনুজ্জামান প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। মুনতা হেনার ফল ছিল সিজিপিএ (কিউমিলিটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) ৩.৫০। তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেন যে এমন সিদ্ধান্ত নিল, অবাক লাগছে।’

এদিকে শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, ‘জীবনে চলার পথে ঘাত-প্রতিঘাত এবং যে কোনো সমস্যা আসতেই পারে। কিন্তু আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের অকাল মৃত্যু কারো কাম্য নয়।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে