দানা বাঁধার আগেই সরকার ডানা কাটবে আন্দোলনের

  আলী আসিফ শাওন

১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১১:০২ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরোনো ছবি
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যে কোনো আন্দোলন দানা বাঁধার আগেই নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সরকার। সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন থেকে যে কোনো আন্দোলন দমনে নতুন এ কৌশলে এগোনোর পরিকল্পনা নিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

তাদের ধারণা, আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক যে কোনো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না। কারণ, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থে যোগ দেবে সরকারবিরোধী পক্ষ। সে ক্ষেত্রে যে কোনো আন্দোলন অঙ্কুরেই বিনাশ করবে সরকার।

সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জানান, সরকার যতই উন্নয়ন করুক না কেন, দেশের মানুষের মধ্যে সবসময় একটা সরকারবিরোধী মনোভাব থাকে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনা করায় নানা কারণে অনেকেই দলটির ওপর ক্ষুব্ধ। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তো রয়েছেনই। তাই এখন যেে কোনো আন্দোলন শুরু হলে আর থামতে চাচ্ছে না।

এমনটাও দেখা যাচ্ছে, সরকার অন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও আন্দোলন চলছে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে। এ দুই

আন্দোলন দেখে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তাই তারা এখন আর কোনো আন্দোলনই দানা বাঁধতে দেওয়ার বিপক্ষে। আন্দোলন বড় আকার ধারণ করার আগেই তা দমনের পক্ষে। কোনো সেক্টরে আন্দোলন হতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সম্ভাব্য সব উপায়ে মোকাবিলা করা হবে। আগামীতে যেসব সেক্টরে আন্দোলন হতে পারে, যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারেন; তাদের ওপর এখন থেকেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের একটি বৈঠক হয়। এতে সবশেষ আন্দোলন এবং আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পর গত শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে বাহিনীর সব ডিআইজি ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে আরও একটি বৈঠক হয়। জানা গেছে, দুটি বৈঠকেই আগামী নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য আন্দোলনের আশঙ্কা এবং তা মোকাবিলায় সরকারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে স্থগিত হওয়া আন্দোলন আবারও মাঠে গড়াতে পারে। এ ছাড়া সামনের দিনে বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা এবং এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরাও আন্দোলনে নামতে পারেন বলে জানানো হয় বৈঠক দুটিতে।

সরকারি দলের কয়েক নেতা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা করছেন তারা। অক্টোবরের ২০ তারিখের পর যে কোনো দিন জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে। বিএনপির দাবিÑ দলীয় নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

সে ক্ষেত্রে নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামতে পারে বিএনপি। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে অরাজনৈতিক আন্দোলনে নামতে পারে। ওইসব অরাজনৈতিক আন্দোলনেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গোপনে সমর্থন দিতে পারে এমন খবর রয়েছে সরকারি দলের নেতাদের কাছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান আমাদের সময়কে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। সে জন্য এখন থেকেই সরকারের সব সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে। তবে ধ্বংসাত্মক কোনো আন্দোলন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আমাদের সময়কে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকারকে চাপে ফেলার জন্য বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন হতে পারে। সরকারকে চাপে ফেলে বাড়তি কিছু সুবিধা লাভের আশায় এসব আন্দোলন।’

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কোটা সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তার পরও আমরা দেখলাম, একটি মহল আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আগামীতেও দেশে যে কোনো আন্দোলন হলে সরকারবিরোধীরা সেই আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে চাইবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী যে কোনো আন্দোলন নস্যাৎ করতে তৎপর থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের নামে সব অরাজকতা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে