ঈদে সীমিত বাস চালানোর ফন্দি

লাইসেন্সে কড়াকড়ি মানতে নারাজ চালকরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১২:০২ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি
ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়বে দুই-একদিনের মধ্যেই। ঈদের পর আবার কয়েক দিন থাকবে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। এ সময়কে পুঁজি করে যাত্রীদের ‘জিম্মি’ করতে কৃত্রিম পরিবহন সংকট সৃষ্টির ফন্দি আঁটছেন শ্রমিকরা। জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে প্রশাসনের কড়াকড়ি অবস্থানের ‘প্রতিবাদে’ এই পরিস্থিতি তৈরি করবেন তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস মিলেছে।

চাহিদার তুলনায় লাইসেন্সধারী ভারী যান (বাস-ট্রাক) চালকের সংখ্যা অনেক কম। কিন্তু যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে স্বল্প সময়ে ইচ্ছা করলেও চালকরা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন না এ তথ্যটি স্পষ্ট করতে চান তারা। এ ছাড়া হালকা যানের লাইসেন্স দিয়েই মাঝারি ও ভারী যান চালোনোর ‘বৈধতা’ আদায়ের জন্যই এ ‘অপকৌশলের’ আশ্রয় নিচ্ছেন শ্রমিকরা।

সূত্রমতে, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে আন্দোলনের পর দেশজুড়ে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জোরদার হয়। এর পর পরই শুরু হয় বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ। বাড়ানো হয় তিন দিন যা গতকাল শেষ হয়। পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ঠেকাতে সড়কে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে মামলা-জরিমানা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

দেখা গেছে, অনেক চালকের কাছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তা ছাড়া প্রাইভেট কারের লাইসেন্স নিয়েই অনেকে চালাচ্ছেন বাস-ট্রাক। এ রকম অপরাধে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। আইনত এ অবস্থা থেকে চালকদের পার পাওয়ার সুযোগ কম। কারণ সাধারণত হালকা যানের লাইসেন্সধারী তিন বছর পর পরীক্ষার মাধ্যমে পাবেন মাঝারি আকারের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স। এরও তিন বছর পর আবার পরীক্ষার মাধ্যমে মিলবে ভারী যান চালানোর সুযোগ। অর্থাৎ একজন চালককে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বাস-ট্রাক চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে ছয় বছর।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণে দেশে গাড়ির সংখ্যার তুলনায় দক্ষ ও লাইসেন্সধারী চালকের সংকট রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে চালকদের আবদারÑ কাক্সিক্ষত লাইসেন্স না থাকলেও অভিযান পরিচালনা করা যাবে না। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে মোটরযান আইনে চালকদের শাস্তি না দিতে দাবি তুলেছেন শ্রমিক নেতারা। এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেই তারা ঈদে রাস্তায় পর্যাপ্ত গাড়ি বের না করার বাহানা খুঁজছেন।

এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, চালকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। তবে এতটুকু বলতে পারি, দেশে হালকা যানের লাইসেন্সধারীরাই মাঝারি বা ভারী আকারের গাড়ি চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। এখন হঠাৎ করে তাদের ওপর চাপ দিলে তারা লাইসেন্স পাবে কোথায়? এসব ধাপ পার হতে তো কয়েক বছর সময় লাগবে। এ সময়ে কি গাড়ি বন্ধ থাকবে? আমি মনে করি, ভারী এবং মাঝারি যানের লাইসেন্স না থাকলেও তাদের সময় দেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদেশে ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ৯টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এর বিপরীতে পেশাদার চালকের সংখ্যা ১২ লাখ ১৫ হাজার ৪৭০। এর মধ্যে ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স রয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৭টি, মাঝারি লাইসেন্স ৬০ হাজার ২৩৮, হালকা ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৯টি এবং থ্রি-হুইলার গাড়ি চালনার লাইসেন্স আছে ৫৪ হাজার ৪৮৪টি। আইন অনুযায়ী একটি গাড়ির তিনজন চালক দরকার। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় চালকের সংখ্যা নগণ্য।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জোরদার হয়। এর মধ্যে গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। নতুন আইনে সাজা বাড়ানোর ব্যাপারে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন পরিবহন নেতারা। কিন্তু জন-অসন্তোষের ঝুঁকি থাকায় এবার প্রকাশ্যে ধর্মঘট-কর্মবিরতির মতো বড় ধরনের ‘জিম্মি’ কর্মসূচি দেননি শ্রমিক নেতারা। যদিও অঘোষিত ধর্মঘট পালন করেছেন বাস মালিকরা।

এবার চালকরা ঈদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি বের না করার অজুহাত তৈরি করতে চাইছেন। কারণ তারা লাইসেন্সে কড়াকড়ি মানতে নারাজ। অপরাধের কারণে চালকের সাজা হলেও ধর্মঘট-কর্মবিরতি দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করার দৃষ্টান্ত অহরহ। তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীরের ঘটনায় চালক জমিরকে সাজা দিলে দেশব্যাপী সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এসব পরিবহন শ্রমিকরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে