জোড়াতালির মেরামতে সড়কে বড় ভয় বৃষ্টি

  তাওহীদুল ইসলাম

১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি : সংগৃহীত
ঈদে ঘরমুখী মানুষকে দুর্ভোগের শঙ্কা ভর করেছে। মহাসড়কগুলো অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হলেও সংযোগ সড়কে নির্মাণকাজে দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে। তার ওপর মহাসড়কে থাকবে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির ঢল। তাই দুর্ভোগের ভয় বেশি জনমনে। অবশ্য দুর্ভোগ এড়াতে আগেভাগে বৈঠক করে প্রস্তুতি নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। তবে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আশাবাদী এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক।

ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক দুটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি জানান, গত ঈদের মতো এবারও রাস্তা সচল থাকবে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতেই গ্রামে ফিরবেন।

জানা গেছে, সড়কের মতো দুর্ভোগের ভয় রয়েছে ঘাটগুলোতেও। বর্তমানে মাওয়া ঘাটে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু গাড়ির দীর্ঘ সারি লেগেই আছে ঘাটে। ঈদে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ালে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আরিচা ঘাটে ফেরি পারাপার এখনো স্বাভাবিক। সড়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতে ইট-বালি ফেলছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। কিন্তু তা ঈদ পর্যন্ত টিকবে কিনা সংশয় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে ইটবালি ফেলে খানাখন্দক ভরাট করা হয়। অথচ এক বৃষ্টিতেই সব ধুয়ে যায়। প্রতিবছরই এভাবে ঈদের আগে সড়কের ভাঙাচোরা মেরামত করা হয়।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান আমাদের সময়কে বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা আরও বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। পিরিয়ডিক মেইনটেনেন্সের আওতায় সড়ক মেরামত করা হয়েছে। তা ছাড়া অনেক মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে প্রকল্পের আওতায়। বিশেষ করে জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরাঞ্চলের রাস্তায় ভোগান্তি হবে না। সাসেক প্রজেক্টের আওতায় সড়কটি সম্পূর্ণ ভালো।

দেশের অন্য সড়ক-মহাসড়কও চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিনটি সেতু (কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী) এলাকার যানজট পুরোপুরি দূর হবে নির্মাণকাজ শেষে। মহাসড়কে কোরবানির হাট অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরাসরি সওজের আওতায় নয়। তাই জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ছয় মহাসড়ক দেশের ৬৩ জেলাকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়কপথে যুক্ত করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনটি সেতু এখনো দুই লেনের। সরু সেতুর কারণে গত কয়েক বছর ধরেই দীর্ঘ যানজট হচ্ছে। যদিও ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনের। কিন্তু দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি। এ ছাড়া জয়দেবপুর-চন্দ্রা-এলেঙ্গা মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও দুর্ভোগ আছে। যদিও জয়দেবপুর-এলেঙ্গার ব্যাপারে আশাবাদী সওজ।

সরকারি হিসাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাতটি, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের চারটি, ঢাকা-ময়মনসিংহের তিনটি স্থান যানজটপ্রবণ। ভাঙাচোরা সড়ক, নির্মাণকাজ ও অব্যবস্থাপনায় এসব স্থানে যানজট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে গত মে মাসে সড়ক পরিবহন বিভাগ বিস্তারিত পরিকল্পনা করে। ঈদুল ফিতরের আগে সব কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু তার অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এবারও দুর্ভোগের শঙ্কা রয়ে গেছে।

সওজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ জরিপে সারা দেশের প্রায় পৌনে চার হাজার কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের ৮০০ কিলোমিটার ভাঙাচোরা। ২৩৯ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই খারাপ। জেলা সড়কের অবস্থা আরও খারাপ। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জেলা সড়ক খানাখন্দে ভরা, ভাঙাচোরা। তবে সওজের ওই প্রতিবেদনের পর অনেক রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।

এদিকে ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না, এমন ঘোষণা আসে প্রতিবার। ঈদের আগে তিন দিন করে সাত দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলবে না। কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটে কম।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে