তিন মেয়েকে নিয়ে চিরকালের জন্য চলে গেলেন সেলিম

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ও সন্দ্বীপ প্রতিনিধি

১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাগ্য ফেরাতে ১৯৯২ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান সন্দ্বীপ উপজেলার মাইটভাঙা ইউনিয়নের অহিদুর রহমানের ছেলে মো. মশিউর রহমান সেলিম। সৌদি আরবের পানি উন্নয়ন করপোরেশনে চাকরি করতেন। ২০০০ সালে স্ত্রীকেও সেখানে নিয়ে যান। তার পর তাদের ঘর আলো করে আসে চার ছেলেমেয়ে।

সম্প্রতি সরকারি চাকরি ছেড়ে তায়েফে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলেন সেলিম। স্ত্রীসহ ছেলেমেয়েদের দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। চলতি মাসে তাদের নিয়ে দেশে আসার সব প্রস্তুতি ছিল; কিন্তু হজের মৌসুমের কারণে টিকিট না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার আগেই তিন মেয়েকে নিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সেলিম। সৌদি আরবের জেদ্দায় বৃহস্পতিবার ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। স্ত্রী-ছেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

একই পরিবারে চার সদস্যের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে বিহ্বল সেলিমের স্বজনরা। দুর্ঘটনার খবর শুনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম। মৃত্যুর খবর তাকে এখনো জানানো হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জেদ্দা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সেলিম ও তার তিন মেয়ে সায়মা (১৬), সিনথিয়া (১৪) ও সাবিহার (১২) মৃত্যু হয়। আহত হন স্ত্রী এয়ারুন্নেছা (৪২) ও ছেলে সিয়াম। তাদের মক্কা আজিজিয়া আল নুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিয়ামের অবস্থা আশাঙ্কাজনক বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। সেলিম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রাইভেট কারে করে তায়েফ যাচ্ছিলেন।

জানা গেছে, সেলিমের চার সন্তান জেদ্দার একটি বাংলা স্কুলে লেখাপড়া করত। তার আরও দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। তায়েফে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালুর পর তাদের দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেলিম। এর আগে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটাতে তায়েফে যাচ্ছিলেন তিনি।

সেলিমের ছোট ভাই তৌহিদুর রহমান সুমন আমাদের সময়কে জানান, গত ৪ আগস্ট ভাবিসহ ছেলেমেয়েদের নিয়ে দেশে আসার কথা ছিল ভাইয়ের। কিন্তু হজ মৌসুমের কারণে বিমানের টিকিট পাননি। তাই আগামী মাসে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয়রা জানান, গত রোজার ঈদের পরদিন চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর সেলিমের বোন মিলি মারা যান। দুই মাসের ব্যবধানে আবার এতগুলো মৃত্যুর শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সুমন জানান, মক্কায় হজের কারণে সেখানে অবস্থানরত দুই ভাই এখনো হাসপাতালে ঢুকতে পারেননি। হজ শেষ হলে সেলিমের কফিলের (চাকরিদাতা) সঙ্গে আলাপ করে ভাই ও ভাতিজিদের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ‘ভাবি কিছুটা সুস্থ হয়েছেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তবে ভাতিজার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ সেলিম ও তার মেয়েদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।

এদিকে এ ঘটনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে