গরুর চালানের সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ঢোকার আশঙ্কা

  হাসান আল জাভেদ

১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১২:০১ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকী ছবি
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত হয়ে আসা গরুর সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানের আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এজন্য সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদী এলাকায় বিজিবি ও র‍্যাবকে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গত ১৮ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৯তম সভায় অস্ত্র চোরাচালান রোধসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সংগঠন দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলনে নামতে পারে। এসব আন্দোলনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অনুপ্রবেশ কিংবা তাদের ইন্ধন থাকতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তথা গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। আগাম তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী মুক্তির জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দিয়ে তদবিরের চেষ্টা করছে। তবে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচনের আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন ঠেকাতে চায় প্রশাসন। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। মাদক মামলার আসামিদের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করবে সরকার। একই সঙ্গে জঙ্গিবিরোধী প্রচার জোরদার করা হবে।

ওই সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে এদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এ অবস্থায় পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু বলেন, রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যেন সম্পৃক্ত হতে না পারে সে লক্ষ্যে ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

জানা গেছে, ঈদের পর স্বল্প আকারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এবং অপরাধে জড়াতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এতে ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শুক্রবারে জুমার খুৎবার আগে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে