৪২ শিক্ষার্থীর জামিন

যেন ঈদের আনন্দই

  আদালত প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলমানদের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা, যা ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে এ দেশে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এমন একটি উৎসব ঘিরে সারাদেশের ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি, ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দের রঙ। অথচ রাজধানীর কিছু পরিবারে এ আনন্দ বরং ছড়িয়ে দিয়েছে বিষাদের কালো রঙ। ঈদুল আজহার অন্যতম বার্তা, প্রাণের চেয়ে প্রিয় হচ্ছে সন্তান। সেই সন্তান যখন কারাবন্দি, তখন তাদের মা-বাবার মনের আনন্দ নিভে যাওয়াই স্বাভাবিক। এই যখন অবস্থা, তখন একটি সংবাদ তাদের মনে এনে দিয়েছে আনন্দাশ্রু।

ঈদের আগেই যেন উৎসবের আনন্দে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন তারা। কারণ শেষ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছে তাদের বুকের ধন। শুধু মা-বাবাই নন, সংশয়ে থাকা ভাইবোনদেরও প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গ্রেপ্তার ৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে গতকাল অধিকাংশেরই জামিনের পর আদালতপাড়ায় এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
কারাগারে থাকা ৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে যাদের পক্ষে গতকাল রবিবার ঢাকা সিএমএম আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়েছে তাদেরই জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিন কোনো আসামিরই জামিন নামঞ্জুর করা হয়নি। রবিবার জামিন হওয়া আসামির সংখ্যা ৪২ জন।

রাজধানীতে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ৯টি থানার ১২ মামলায় ৫২ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। রবিবার জামিন হওয়া ৪২ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড্ডা থানার ১২, ভাটারা থানার ৬, কোতোয়ালি থানার ৩, রমনা থানার ৩, উত্তরা পশ্চিম থানার ৩, নিউমার্কেট থানার ৩, পল্টন থানার ১, শাহবাগ থানায় ২ এবং ধানমন্ডি থানার ৯ জন।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এবং মহানগর হাকিম একেএম মঈনউদ্দিন সিদ্দিকীসহ কয়েকজন হাকিম আসামিদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

বাড্ডার মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তার বাবা এমএ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আজ আমার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কত যে যন্ত্রণায় ছিলাম, সে কথা কাউকে বোঝাতে পারব না। জামিন পাওয়া সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাহিদুল হকের বোন জাফরিন হক চিৎকার দিয়ে বললেন, আব্বু, ভাইয়ার জামিন হয়ে গেছে। বাবাকে এ কথা বলেই আদালতের বারান্দায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি।

জামিন পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইফতেখার আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, জাহিদুল হক, হাসান, মুশফিকুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা ওরফে তন্ময়, তরিকুল ইসলাম, রেদোয়ান আহম্মেদ, সাখাওয়াত হোসেন নিঝুম, আজিজুল করিম অন্তর, মাসহাদ মর্তুজা বিন আহাদ, শিহাব শাহরিয়ার, মেহেদী হাসান, সোহাদ খান, মাসরিকুল ইসলাম, তমাল সামাদ, মাহমুদুর রহমান, ওমর সিয়াম, মাহাবুবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, নাইমুর রহমান, মিনহাজুল ইসলাম, মাহমুদ খান রবিন, তোফায়েল, আশিক, মেহেদী, জাহিদুল, দুলাল, সাইফুল ইসলাম ওয়াদুদ, নুর আলম মিঠু, আজিজুর রহমান, আমিন হোসেন, আমানুল, খায়রুল, দাইয়ান নসির প্রমুখ।

আসামিদের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবীর হোসাইন, আকতার হোসেন সোহেল, মাইদুল ইসলাম পলক প্রমুখ আইনজীবী। আসামিদের মধ্যে অধিকাংশই বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থসাউথ, সাউথইস্ট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওই সব শিক্ষার্থী গত ৬ আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর অধিকাংশ আসামির বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে