ফারুকী হত্যার জট খুলল ৪ বছর পর

জেএমবির ৯ জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে সিআইডি

  শাহজাহান আকন্দ শুভ ও হাবিব রহমান

২৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুপ্রিমকোর্ট জামে মসজিদের খতিব ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার জট খুলেছে। দীর্ঘ চার বছর তদন্তের পর এ হত্যাকাণ্ডে ৯ জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

জেএমবির শীর্ষ নেতা হাদিসুর রহমান সাগর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সদস্যদের নামও বলে দিয়েছেন এ জঙ্গি নেতা। আদালত ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মামলাটি দীর্ঘদিন তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। চলতি বছর মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। সিআইডিতে আসার পর মামলাটির তদন্তে নতুন মোড় নেয়।

গত ২২ মার্চ রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক গ্রাম থেকে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা হাদিসুর রহমান সাগর ও আকরাম হোসেন নিলয়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম বিভাগের (সিটি) যৌথ দল।

মূলত হাদিসুর রহমান সাগর গ্রেপ্তারের পরই ফারুকী হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করে। ফারুকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাগরকে রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্ত কর্তৃপক্ষ সিআইডি। সিআইডির ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেন সাগর। মাস তিনেক আগে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি।

ফারুকীর ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী আমাদের সময়কে বলেন, সিআইডি এক আসামি গ্রেপ্তার করেছে। এটি তদন্তের ইতিবাচক অগ্রগতি। এখন আমরা এ হত্যায় অংশ নেওয়া আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে জয়পুরহাটের মাওলানা আবদুল কাইয়ূমের হাত ধরে জেএমবিতে যোগ দেন সাগর। ২০১৪ সালে তৎকালীন জেএমবির দুই গ্রুপ এক ছাতার তলে এসে নাশকতার পরিকল্পনা করে। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন জেএমবির শীর্ষ নেতা ড. নজরুল ইসলাম ও সারোয়ার জাহান মানিক। অপর গ্রুপে ছিলেন জেএমবির শীর্ষ নেতা সাইদুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক।

দুই গ্রুপ এক ছাতার নিচে এসে বগুড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক গোপন বৈঠক করে। মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয় আশুলিয়ার এক বৈঠকে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেএমবির তৎকালীন ঢাকা অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার তাসনিম। তাসনিম বৈঠকের কিছু দিন আগে জামিনে মুক্ত হন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী পীর, মাজারের খাদেমদের হত্যার।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হাদিসুর রহমান সাগর বলেছেন, ফারুকী হত্যাকাণ্ডে তাদের দুটি টিম অংশ নেয়। তাসনিমের নেতৃত্ব একটি টিম ফারুকীর বাসায় ঢুকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। আরেকটি দল হাদিসুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে ব্যাকআপ টিম হিসেবে বাসার নিচে অবস্থান নেয়। প্রথম টিম কোনো কারণে আক্রান্ত হলে ব্যাকআপ টিমের সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। ‘ইসলামের অপব্যাখ্যা দেওয়ার অপরাধে’ শাইখ নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাগর।

হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া নয়জন হলেন হাদিসুর হমান সাগর, সারোয়ার জাহান মানিক, আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই ফারুক, তাসনিম, ইমন, রজব, রফিক, আশফাক ও নাইম। তাদের মধ্যে জামাই ফারুক গত বছর ভারতে গ্রেপ্তার হয়। সাগর ও তাসনিম কারাগারে। অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। এর আগে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাদের কারোরই হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে ৮-৯ দুর্বৃত্ত পূর্ব রাজাবাজারের দোতলার ভাড়া বাসায় ঢুকে স্ত্রী ও স্বজনদের আটকে রেখে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে। ফারুকী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মতিন) সভাপতিম-লীর সদস্য ছিলেন। একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকও ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই খুনিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ফারুকীর দল।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে