আওয়ামী লীগের চোখে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:২৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘জাতীয় ঐক্য’ নামে সরকারবিরোধী সম্মিলিত বিরোধী জোট গঠন প্রক্রিয়াধীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন তারা অনেকদূর এগিয়ে গেছেন। এ জোট ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন।

জাতীয় ঐক্যের কুশীলবরা জাতীয় অঙ্গনে পরিচিত মুখ হলেও ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান ততোটা জোরালো নয়। তারপরও সরকারবিরোধী সবাই এক প্লাটফর্মে এলে ক্ষমতাসীনদের জন্য এটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের ডামাডোলের মধ্যেই জোটের রাজনীতিতে মেরুকরণের চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ।

সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিকল্পধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য নিয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরামসহ বেশ কিছু দল মিলে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠন কাজ চলছে জোরেশোরে। ক্ষমতাসীনরা অবশ্য বসে নেই। আগামী নির্বাচনের আগে রাজনীতির মাঠে পাল্টা জোট দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা ছোট-ছোট দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

ক্ষমতাসীনদের মূল লক্ষ্য, ১৪ দলীয় জোট, মহাজোট, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটকে কাছে রেখে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জে ফেলা। এ লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরের পৃথক জোটকে ভোটের আগে সক্রিয় দেখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। শাসক দলের নেতারা প্রমাণ করতে চান, জাতীয় ঐক্য বলতে যেটা বোঝানো হচ্ছে তা আসলে জাতীয় ঐক্য নয়, সরকারবিরোধী একটা সম্মিলিত প্লাটফর্ম মাত্র।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। আওয়ামী লীগ ছাড়াও ১৪ দলে আরও দল রয়েছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি রয়েছে। দেশে আমাদের জোট ও মহাজোটের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। দেশের বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কখনো জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জাতীয় ঐক্যের নামে দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যে’র শরিকদের চেয়ে আরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সঙ্গেও কথাবার্তা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর অনেক নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে। কারণ ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর অনেক নেতাই চান না বিএনপি যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের সঙ্গে জোট বাধুক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জাতীয় ঐক্যের অন্যতম সক্রিয় নেতা সুলতান মুহম্মদ মনসুর গতকাল রাতে আমাদের সময়কে বলেন, আমি যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি তাই আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এটা থাকাটাই স্বাভাবিক।

গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে গিয়ে পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। এর এক সপ্তাহ আগে আটটি বাম দল নিয়ে নতুন জোট গঠিত হয় সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে। ওইসময় এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের জানান, বাসদের খালেকুজ্জামান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, এলডিপির কর্নেল অলি, জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, বিকল্পধারার মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানসহ অনেকের সঙ্গেই আমার যোগাযোগ হয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, গত ২৮ আগস্ট ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রস্তুতি বৈঠকের পর থেকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খানের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ হয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও সর্বোচ্চ সংখ্যক দল যাতে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠিত হলেও এর চেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল ঐক্যের বাইরে থাকে এটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে