সংসদে শীর্ষ ১শ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

তাদের পকেটে বাজেটের এক-চতুর্থাংশ অর্থ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ঋণখেলাপির সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রণীত বাজেটের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য বেগম পিনু খানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজে সংরক্ষিত সর্বশেষ গত জুন মাসের তথ্যানুযায়ী অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও ১০০ শীর্ষ খেলাপির তালিকাও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

সংসদে উপস্থাপিত তালিকার শীর্ষ ঋণখেলাপির প্রথম ১০ প্রতিষ্ঠান হলো মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লি., রেমিয়েক্স ফুটওয়্যার লি., ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, রাবেয়া ভেজিটেবল ওয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, রাইজিং স্টিল মিল, ঢাকা ট্রেডিং হাউস, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা শিপিং মিলস ও ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ছিল ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদান ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির (ডিসবার্সমেন্ট) পরিমাণ ছিল ১৮৭ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন এবং অনুদানের পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, কৃষিঋণের সুদহার ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর আগে এটি ১০ শতাংশ ছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ এক মাসে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ৭৮৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ দেওয়া হয়েছে।

মো. আব্দুল মতিনের প্রশ্নে আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদকে জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা; এর মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

অপর এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সাত হাজার ৫৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োরগকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এক হাজার ৫৮৮ জনের সার্টিফিকেট কোর্স সমাপ্ত করেছে এবং ২৬০ জনকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ক্যাপিটাল মার্কেট (পিজিডিসিএম) কোর্স পরিচালনা করেছে। মন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষার্থে আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা প্রথা এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার উদ্দেশে ৯০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের কাছ থেকে আবেদন পাওয়া গেলে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা পর্যালোচনাপূর্বক সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে নতুন শাখা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সদরে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা খোলা হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে