জামিন বৃদ্ধির বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত

আদালতে যাননি খালেদা জিয়া

  আদালত প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ওই কারণে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা এ সংক্রান্ত বৃহস্পতিবার আইনগত ব্যাখ্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী আদালতে আসতে অস্বীকৃতির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানি শেষে গতকাল বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

এর আগে এদিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত নবগঠিত অস্থায়ী আদালতে বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এখানে আসামি পক্ষের জন্য ৪টি চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। ৩ জন আসামির পক্ষে আমরা ৪ জন এসেছি তাই বসার জায়গা নেই। আমরা আর কয়েকজন এলে পুলিশ অফিসার সাংবাদিক ভাইদের দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে গেজেট করে ৫ সেপ্টেম্বর এখানে আদালত বসানো হয়েছে। এর পর তিনি গেজেট পড়ে শুনিয়ে এটা সাংবিধানিক ও আইনসঙ্গত

কোনো আদালত হয়নি বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ না করে এখানে আদালত বসানোর বিষয়ে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাজদার হোসেন মামলার রায়েরও পরিপন্থী বলে এ আইনজীবী দাবি করেন। আদালতের বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটির আকার ১৫/৩০ ফিট। আমাদের বসার জন্য চারটি চেয়ার আছে। সেখানে ৪ জন বসতে পারে। সবাই এলে থাকতে পারতাম না।

এর পর তিনি বলেন, আজ (বুধবার) ম্যাডামের পক্ষে আমরা ২টি আবেদন দাখিল করেছি। একটি তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির এবং অপরটি এই আদালত সাংবিধানিক ও আইনসম্মত না হওয়ার বিষয়ে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ম্যাডাম আদালতে এসে বলেছেন তিনি অসুস্থ। এর পর আমাদের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়ে চিকিৎসার আবেদন করেছে। একটি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন হয়েছে। ম্যাডাম আজ অসুস্থতার জন্য হয়তো আদালতে আসতে পারেননি। এখানে আদালত বসতে পারে কিনা এ বিষয়ে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে একটি আবেদন দিয়েছি। এখানে আদালত বসার বিষয়টি একটি বিতর্কিত বিষয়। এ বিষয়টি আজ আপনাকে (বিচারক) আমরা জানাতে এসেছি।

এর পর জামিনে থাকা অপর দুই আসামি জিয়াউল হক মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম এবং মো. আকতারুজ্জামান একইভাবে কারাগারে ভেতরে আদালত বসানো ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা ও সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী উল্লেখ করে এক মাস মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন করেন। একই সঙ্গে ওই আসামিদের জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার জন্য আদালতে যেতে পারেননি। অথচ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রধান ফটকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। অনুমতি ব্যতীত এখানে প্রবেশের সুযোগ নেই। সিনিয়র পুলিশ অফিসার ও সাংবাদিকদের এখানে দাঁড়িয়ে কথা শুনতে হচ্ছে। রুমের যে অবস্থা, তাতে সবাইকে জীবিত ফেরত দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। তারা আরও বলেন, আদালতের এ রকম পরিবেশ, চেহারা আগে আর দেখিনি। বিচারকরা সামনে দিয়ে আদালতে প্রবেশ করেন। এখানে দেখলাম আপনি পেছন দিয়ে প্রবেশ করছেন। এটা লজ্জাজনক, আদালত অবমাননার শামিল। এটা সংবিধান পরিপন্থী, মাজদার হোসেন মামলার পরিপন্থী।

এর পর দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, তারা (আসামির আইনজীবী) একদিকে বলছেন এ আদালত অসাংবিধানিক। আবার সেই অসাংবিধানিক আদালতে তারা জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনও করেছেন। কিন্তু তারা আজ (বুধবার) মামলাটি যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আছে এ সম্পর্কে কিছু বলছেন না। গত ৫ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী মামলাটি আজ যুক্তিতর্কের জন্য আছে। অবৈধ আদালতে দাঁড়িয়ে বৈধ জামিন চাইবেন আবার সেই আদালতের আদেশ পালন করবে না, তা হতে পারে না। এর পর গেজেট পড়ে বলেন, এটা সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার। তাই আদালত স্থাপন যথাযথ হয়েছে। তারা এখানে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখতে পাচ্ছে, পানি গড়িয়ে যেতে দেখাতে পাচ্ছে। তারা বলতে পারেন, চেয়ার বাড়িয়ে দিতে, এসি লাগিয়ে দিতে, আমরা ব্যবস্থা করব।

এর পর অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এখনো কারাগারের মূল ফটকে কেন্দ্রীয় কারাগার লেখা আছে। এর পর প্রসিকিউটর কাজল বিচারকের উদ্দেশে বলেন, আপনাকে এখানে বসে মামলা পরিচালনার গেজেট হয়েছে। আপনি এখানে বসেছেন। আর আজ যে জন্য মামলাটি আছে সেই যুক্তিতর্ক শুরু করা হোক। এর পর আইনজীবী আমিনুল বলেন, স্যার (বিচারক) অরফানেজ মামলার রায়ে আগে আমি মামলাটি যুক্তিতর্ক শুরু করেছিলাম। এতদিন আগে আমি কী বলেছি তা ভুলে গেছি। আপনার মনে আছে কিনা জানি না। এ ছাড়া আজ (বুধবার) একজন আসামি খালেদা জিয়া আদালতে আসেননি। এ অবস্থায় আজ মামলার যুক্তিতর্ক শুরুর সুযোগ নেই।

এর পর বিচারক বলেন, এখানে খালেদা জিয়ার কাস্টডি এসেছে। সেখানে লেখা আছে, কারা কর্তৃপক্ষ আজ (বুধবার) খালেদা জিয়াকে আদালতে আসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি আসতে অনিচ্ছুক জানিয়েছেন। তিনি যেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে আসেননি। এ অবস্থায় আদালত তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে কিনা। আর তার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলানোর সুযোগ আছে কিনা।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ম্যাডাম নিশ্চয়ই অসুস্থতার জন্য আসেননি। তিনি অসুস্থ, তা আপনিও জানেন। মেডিক্যাল বোর্ড হয়েছে। আমরাও কথা বলব ম্যাডামের সঙ্গে, একটা সময় দিন।

তখন মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া কাস্টডিতে আছেন, তিনি আসেন না। জেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও তিনি আসছেন না। সহযোগিতা করছেন না। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, কারো জন্য বসে থাকতে পারে না।

এর পর বিচারক সানাউল্লাহ মিয়ার উদ্দেশে বলেন, কাস্টডির কথা অনুযায়ী আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়াতে পারে কিনা। আর তার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চালানোর সুযোগ আছে কিনা। এ বিষয়টি মীমাংসা হওয়া প্রয়োজন। আপনাদের আজ প্রস্তুতি না থাকলে কাল এ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দেবেন। যেহেতু বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত তারিখ তাই পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। কাল ব্যাখ্যা দেবেন। এর পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে জামিনের মেয়াদ বাড়বে কিনা। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে