রাখাইন রাজ্যে কাজ শুরু শরণার্থী সংস্থার

জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন না সু চি

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠার মধ্যেই গতকাল বুধবার সু চির এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সু চি যোগ দিচ্ছেন না। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সু চি মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলরের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার পরিবর্তে জাতিসংঘে যাবেন দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সোয়ে ও কিয়াও টিন। মিয়ানমারের স্থায়ী সচিব মিন্ট থু জানান, দুই মন্ত্রী প্রত্যাবাসন (রোহিঙ্গা) ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জাতিসংঘকে অবহিত করবেন। গত বছরও রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী সংঘাত শুরুর পর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি সু চি।

রাখাইনে কাজ শুরু ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির সমঝোতা স্মারক সইয়ের তিন মাস পর রাখাইনে কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি। মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক ইরাবতী ও ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার জানায়, গতকাল সংস্থা দুটি রাখাইনের রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের মূল এলাকাগুলোয় মূল্যায়ন কাজ শুরু করে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে গত জুনে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয় ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপির। সংস্থা দুটি রাখাইনে সব সম্প্রদায়ের উন্নত ও স্থিতিশীল জীবনযাত্রার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করবে।

ইউএনএইচসিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আওফে ম্যাকডোনেল জানান, মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষ হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। মংডু, বুথিডং ও রাথেডংয়ের ২৩টি গ্রাম ও তিন গুচ্ছগ্রাম পরিদর্শন করবে সংস্থা দুটির প্রতিনিধি দল। মিয়ানমার সরকার এ গ্রামগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। এ কার্যক্রমকে প্রারম্ভিক ও ছোট্ট পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা আশা করছেন সমঝোতা অনুযায়ী সব এলাকায় শিগগিরই তাদের যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

অস্ট্রেলিয়াকে মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। ফার্স্টপোস্ট গতকাল এক খবরে জানায়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ল সেন্টার ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে ওই অনুরোধ জানানো হয়।

২০১৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ওই আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

অস্ট্রেলিয়া সরকার মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র অবরোধ আরোপ করলেও গত অর্থবছর দেশটি মিয়ানমারকে প্রায় ৪ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে