সড়ক আইন আজ উঠছে সংসদে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সংসদে তোলা হবে আজ। এর পর যাবে সংসদীয় কমিটিতে। দশম জাতীয় সংসদের একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হবে আগামী অক্টোবর। সড়ক নিরাপত্তা আইনটি ওই অধিবেশনে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিচালনা পরিষদের ১১তম সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি স্থগিত রাখা হবে। সামনে নির্বাচন, সব দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় যাবেন, সাংবাদিকরাও যাবেন। ঢাকায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার গেটওয়ে গাজীপুর। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ওই রাস্তা দুর্ভোগ এড়াতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে বিআরটির নামে রাস্তা বন্ধ করে খোঁড়াখুঁড়ি মোটেও এপ্রিশিয়েট করি না। যেহেতু এ কাজ শেষ করতে দেরি হবে, চার মাস পরে হলে কী সমস্যা? তবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের অন্য কাজ চলবে।’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে চড়া শিশুদেরও হেলমেট পরা নিশ্চিত করতে সভায় নির্দেশনা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।’ মন্ত্রী জানান, রাজউক থেকে ঢাকার পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বাসডিপো করতে ডিটিসিএর নামে সাত একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করার বিষয়ে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দাবি মামাবাড়ির পুরনো আবদার। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে কার কাছে দায়িত্ব দেবেন? দেশে কি কোনো সংবিধান থাকবে না, আইনকানুন থাকবে না? আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না, যাচ্ছিও না। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের দেশেও সেভাবেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘চলমান অধিবেশন শেষে অক্টোবরে আরেকটি অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশন সম্ভবত মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে। তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। অক্টোবরের অধিবেশন হবে খুবই সংক্ষিপ্ত। এর পর মন্ত্রীরা কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবেন। তবে সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙবে না আবার কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না, নির্বাচনকালে সংসদ বসবেও না। দেশে যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেটা ভিন্ন কথা। যদিও আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আলাপ-আলোচনা করেই সব কিছুর সমাধান চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াইনি!’

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতিরেসের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিবের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘জাতিসংঘ যদি তাকে আমন্ত্রণ করে, তারা যদি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী এজেন্ডা আছে, আমি তা জানি না। নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সে সব নালিশের ব্যাপারে তাদের মতামত কী, সামনাসামনি তাদের পলিটিক্যাল উইং নিয়ে আলাপ করতে পারে বলে অনুমান করছি। সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি করার বিষয় নয়। আমাদের শক্তির উৎস এ দেশের জনগণ। নির্বাচনে জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। আমাদের সিদ্ধান্ত, কোনো সংবিধানবহির্ভূত প্রেশারের বা চাপের কাছে মাথা নত করব না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি নিয়ে দলটির নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এ দেশের জনগণ যদি উতলা হতো, তা হলে গ্রেপ্তারের পরই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। একটা ছোট আন্দোলনও তো দেখলাম না। তারা (বিএনপি) সর্বাত্মক আন্দোলন করবে, এটা লোকে বিশ্বাস করে না। তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যেই ঐক্য নেই। একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করে না। একজন আরেকজনকে বলে সরকারের দালাল। যারা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ নয়, সর্বাত্মক আন্দোলন করবে কীভাবে? তাদের সর্বাত্মক আন্দোলন নিরীহ অনশনে পরিণত হয়েছে। সাহস থাকলে আগেই হতো, এখন আর সময় নেই। জনগণ এখন নির্বাচনী মুডে আছে।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করেন যাই করেন, জনগণকে নিয়ে করেন। তা অহিংস করলে শান্তি। আর যদি সহিংস হয়, তা হলে জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিহত করব।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে