দাফনের ৩৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার!

  নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপত্তাহীনতায় থানায় জিডির পর নিখোঁজ। একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার। পরিবারের শনাক্ত, দাফন, অতঃপর মামলা দায়ের। এত ঘটনা যাকে ঘিরে, আসাদুল্লাহ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের সেই ব্যক্তি ৩৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার হলেন নারায়ণগঞ্জে। বৃহস্পতিবার রাতে এক রিকশাওয়ালা তাকে সোনারগাঁও থানায় নিয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, এক রিকশাওয়ালা বৃহস্পতিবার রাতে আসাদুল্লাহকে থানায় নিয়ে আসেন। তাকে ডাক্তার দেখিয়ে আমরা সরাইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তিনি এখন সুস্থ। তাকে গুম করে হত্যার অভিযোগে সরাইল থানায় একটি মামলা আছে। আসাদুল্লাহর দাবি, তাকে কেউ নারায়ণগঞ্জে ফেলে রেখে গেছে।

গত ৫ আগস্ট সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুল্লাহ থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কাপ্তান মিয়ার সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জেরে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

সরাইলের উচালিয়া পাড়ার গ্যাসফিল্ড রাস্তা থেকে আসাদুল্লাহকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে অভিযোগ করে ৯ অগাস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন তার মেয়ে মোমেনা বেগম। সেখানেও আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই দুইজনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ ৬ সেপ্টেম্বর অরুয়াইল ও সরাইল থানার মাঝামাঝি এলাকার চুন্টা কৈবর্তপাড়ার একটি বিল থেকে অর্ধগলিত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। সেটি আসাদুল্লাহর লাশ হিসেবে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের পর সেই লাশ নিয়ে গিয়ে তারা গ্রামের বাড়িতে দাফন করেন।

দাফনের পরদিন আসাদুল্লাহকে অপহরণের পর হত্যা এবং লাশ বিলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে সরাইল থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মোমেনা। সেখানে শফিকুল ইসলাম ও কাপ্তান মিয়াসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে